ভ্রমণ

সুশান্ত সৎপতি

কোথাও যাওয়া হয় না
কিন্তু পৃথিবীময় মানসভ্রমণ করি।
গণপতিই এ ব‍্যাপারে আমার আদর্শ।
যদিও তার বাহনের উৎপাতে ঘরে থাকাই দায়।সিদ্ধি এবং ঋদ্ধি বিষয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই, থাকার মধ্যে আছে সর্বগ্রাসী ক্ষুধা।

ভাতের ঘ্রান

রাখী ব্রহ্ম

নতুন দিনের নতুন সকালে
সবুজ ঘাসে ঝড়ে সোনালী রোদ
কচি কচি সবুজের দল
হওয়ার তালে কচি পাতা উড়িয়ে
আহ্বান জানায় নতুন ভোরকে |
বৃষ্টিভেজা ঘাসে ওদের শৈশব লুটোপুটি খায়
প্রজাপ্রতি রঙ্গিন পাখায় রোদ মেখে
কখনো বৃষ্টি ভিজে খেলে রামধনু খেলা
জলফড়িং ঘাসের বুকে কাটে জলের আঁচড়
বৃষ্টিভেজা পাখিরা সোনালী ডানায় মাখে হলুদ রোদ
নদীর বুকে বৈঠাবেয়ে
মাঝি ধরে ভাটিয়ালিগান
ছোট্ট তাঁর মেয়েটির জালভেজা ফ্যাকাসে হাত
নৌকার খোলে জমিয়ে রাখে রুপোলি আঁশের মাছ
আঁশটে গন্ধে পেটের খিদেয় শিশু ভোলে শৈশব
সারাদিন বৃষ্টিতে ভিজে
ভাতের সন্ধানে
শিশুটি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্নে জলফড়িং,রঙ্গিন প্রজাপতি
আর বৃষ্টি ভেজা ঘাসের সঙ্গে সেও খেলা করে
পূর্ণিমার চাঁদের আলো আছড়ে পড়ে ভাঙাঘরে
মেয়েটি খোঁজে রাতের আকাশের ভাতের গন্ধ
একথালা গরম ভাতের আশায় ঘুমিয়ে
রুপোলি মাছের সোনালী রোদ মাখা ভাবনা
এসে দাঁড়ায় ভোরের আলোয়
আর দূরের র্আড়ৎ মালিকের বাড়ি থেকে
ভেসে আসে গরম ভাতের সুঘ্রাণ |

পরিক্রমা

গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়

দিনের আকাশ গল্প করে রাতের আকাশের সঙ্গে
আর এই সময় পোস্টমর্টেম রিপোর্ট লেখা হয় নিঃশব্দে।
পৃথিবীতে চিরকাল দু দল মানুষ আছে , একদল
জীবিত মানুষ আর এক দল মৃত মানুষ। জীবিত মানুষ
সুন্দরী , সুগন্ধি , কবিতার ভুর্জপত্র , কবি , গানের গলা
ছবি আঁকার তুলি সব কিনে নেয়। মৃত মানুষ তাই নিয়ে
হতাশাবিদ্ধ উট হয়ে যায় , শুধু তপ্ত বালুতে মরু প্রান্তর পেরিয়ে
ভাত সবজির সন্ধান করে
রাতের আকাশ এই সব তথ্য দেয় দিনের আলোকে।

কাগজ বালক

অহনা সরকার

কাগজের সাদা বালকগুলো
নেভাতুর কল্পনা
লক্ষ্য ধাতু নিষ্কৃত
সাদা পাথর মোকড়ে
আহত শহর

নিতান্ত নিঃক্ষেপ

স্তম্ভিত গ্রামজীবন থেকে মহানগর ফিরছে। হাতে একটা কাদা মাটির ব্যাগ। কখনও অনন্ত ছিল আর স্রোতের কালে কিছু চেনা বর্ষা পরিসংখ্যান মেষ আর একটা গরুর গাড়ি। রাস্তা নেই যে পথ একপ্রকার হাহাকার। মাঝে মাঝে শব্দে দূরাত্ব ভেসে আসা কল্পনা স্বপ্নে দেখি একটা ট্রাম চলেছে দু’পাশে বেলুনওয়ালা হাতে বড় বড় ঘাস পাতায় নানা রঙের বিলিতি চকলেট একটা মাছের ঘরও আছে যদিও সেটা বাণভাসী।

অকথ্য লাগে জানি। পাশ দিয়ে পেরিয়ে যাওয়া বড় বড় সাঁকো সুরাট মাঝে মাঝে নিজের চোখ তুলে যখন পদ্মার ওপারে ভাসো ভাসো চুম্বী একটা গ্রাম সদ্য হাঁটতে শিখেছে তখনও নাম হয়নি, সকাল এসে একদিন জানতে চেয়েছিল, “আমার সাথে যাবি’? পরিহার না পরোকার কোনটা বিধেয়? কোনটায় চোখ রাখলে আর কখনও দেখা যায় না ভুঁইপোতার জঙ্গল কয়েকটা কচি হাত নিজের মনে বেছে বেছে জড়ো করা অধ্যায়

এগুলো কি বিলাস স্মৃতি বা সামনের? হবে হয়ত। এই যে আবহমান জমা ভিড় কাঁথা কাপড় কফ না পোড়ানো দেহ কাকে র ছেঁড়া ঠোঁট কখনও চেয়ে থাকতে থাকতে মনে হয় ঝাঁপ দিলেই তো হয়! একদম নিচে অলন্ত তলিয়ে যাওয়া

একটা পাখি প্রবাসী স্বপূরক ভুল হতে হতে ও ই দূরে দেখো বিস্ময় একলা চোখে ক্লান্ত

কেউ কি তোমার খবর নিলো

মনোজ ঘোষ


কেউ কি তোমার খবর নিলো
মরার পরে কবর খুঁড়ে?
রোজ যে তোমার পচন ধরে
সমস্ত ওই শরীর জুড়ে।

বিয়োজকরা করছে তোমায়
ক্ষিণ ক্ষিণ বিয়জিত,
কেউ কি আর খবর নেয়
আগে যেমন খবর নিতো?

বাঁচলে তুমি সবার আপন
মরলে পর হবে,
মরার পরে সব ছেড়ে
কবরে ঠাঁই পাবে।

এটাই নিয়ম মানুষের মধ্যে
শতাব্দী আগে ও এমন ছিলো।
মরার আগে সবাই আপন,
মরলে তোমার খোঁজ কে নিলো

ঠান্ডা মাংস

নন্দিতা দাসের পরিচালিত “মান্টো” ছবিটি দেখার পর দর্শক কি অনুভুতি নিয়ে টিভি বা ফোন থেকে চোখ সরাবেন জানা নেই, তবে কিছু অভিজ্ঞতা, কিছু রক্তক্ষরণের জ্বালা বোধ তাতে থাকবে হয়ত। সাদাত হাসান মান্টোর জীবন নির্ভর ছবিটি যে সময়কে চিত্রিত করেছে, সেই ১৯৪৬ থেকে ১৯৫৫র যুদ্ধবিদ্ধস্ত, পরমাণু বোমায় টুকরো টুকরো হ‌ওয়া মানবতা, দেশভাগ, দাঙ্গা, তথাকথিত স্বাধীনতা, উদ্বাস্তু মানুষের বেঁচে থাকার অসমযুদ্ধ …. সমস্ত‌ই চরিত্র হিসেবে ছবিটির দৃশ্যে দৃশ্যে থেকে গিয়েছে। দর্শকের হয়ত ঋত্বিক ঘটকের ছবিগুলির ও তাঁর নিজ জীবনের কথা মনে পড়বে অনিবার্যভাবে। সাদাত হাসান মান্টোর “ঠান্ডা গোস্ত” গল্পটি ও তার জন্য আদালতে স‌ওয়াল জবাবের পর সাজাপ্রাপ্ত হ‌ওয়া দর্শককে তসলিমা নাসরিনের “ক”
নিষিদ্ধ হ‌ওয়া বা কৌশিক গাঙ্গুলীর ছবি “আর একটি প্রেমের গল্প” নন্দনে দেখাতে না পারার ঘটনা মনে আসবে। আসলে ছবিটা দেখলে এইসবের চেয়েও আজকের, এই সময়টার তুলনা চলে আসে। ন‌ওয়াজ‌উদ্দিন সিদ্দিকির অভিনীত সাদাত হাসান মান্টো যদি ২০১৮ সালের কোন আদালতে দাঁড়িয়ে কোন ছবি বা উপন্যাস বা চিত্রকর্মের ওপর রাষ্ট্রের চাপানো (তৈরি করা জনমতের, ধর্মীয় ভাবাবেগের জুজু দেখিয়ে, অবশ্য‌ই) নিষেধাজ্ঞার জবাবে সৃষ্টির ও স্রষ্টার স্বাধীনতার স্বপক্ষে বলতে কাঠগড়ায় উঠতেন, একটুও বেমানান হত না। সাত দশক আগে যা একটি ব্যতিক্রমী সাদাত হাসান মান্টোর ঘটনা ছিল,
আজকে সেটা ফেসবুকে একটা স্কেচ পোস্ট করা, একটা টেবিল বাজানো কয়েক কলি গানের মত অতিসাধারণ ক্ষেত্রেও ঘটে যেতে পারে। শুধু পাকিস্তান-ভারত-বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বে নয়, ইউরোপ আমেরিকার প্রথম বিশ্বেও। ধর্ম ও ঈশ্বরবাদের যমজ সন্তান জাতিসত্বার রাজনীতি ও বিদ্বেষ এই গ্রহে এই মুহূর্তে যতটা স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিপন্ন, তা একটা পরমাণু বোমার চেয়ে অনেক বেশী ও কার্যকরী ধ্বংসকান্ড ঘটাতে সক্ষম। কিছুদিন পরে এই পৃথিবীটায় ঠান্ডা, পচতে শুরু করা মাংস ছাড়া কিছুই থাকবেনা। সেই গল্প বলার জন্য মান্টো-ঋত্বিকরাও থাকবেন না। নন্দিতা দাসের “মান্টো” সেই অদূর
ভবিষ্যৎ ঠান্ডা সময়টার‌ই কয়েক ঝলক।

এগারো দিন

অরিজিৎ কুমার

“আজ সেদ্ধ বরবটি আর শশাকুচো দিয়ে মুড়ি মাখুন।” জানতে চেয়েছিলাম কি খাবো আজ রাত্রে, তার উত্তরে আমি বললাম মেনুটা। তারপর সরে এসে জামা, চশমা, নোসমাস্ক, কানের মুখোশ সব টেবলটপ ড্রাইওয়াশ মেশিনের রিসিভারে রাখতে লাগলাম। ওখান থেকেই শুনলাম আমি জিগ্যেস করছি আমাকে, “কেমন ছিল সপ্তাহটা?” একটু ভেবে বললাম “দিব্য”।
মেশিনটা প্রিহিট হতে দিয়ে আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহলের ভালভটা খুলতে খুলতে একটু গলা তুলে বললাম “এগারোটা দিন কোথা দিয়ে যে কেটে গেল …  আপনি যে ব‌ইটা খুঁজতে বলেছিলেন, বেমালুম ভুলে গেছি।” ভালভের নিচেই জুতোর আলনা, তাই জুতোটা শাট ডাউন করে চটি পায়ে গলিয়ে জুতোটা যথাস্থানে রেখে দিলাম। ওদিক থেকে আমার গলা পেলাম, “রেডিয়াস কমা রেটের কিছু উন্নতি হল?”

এখানে বলে রাখি, ২০৪৬ থেকে পৃথিবীর রেডিয়াস কমতে শুরু করেছে। ২০২৪ নাগাদ সব দেশে ধর্মীয় সরকার ক্ষমতায় আসার পর সব দেশের নেতারা  মিলে সিদ্ধান্ত নেন সমস্ত অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের উৎপাদন বন্ধ করে সবাইকে নেচারোপ্যাথিতে অভ্যস্ত করে তোলা হবে। যে টাকা বাঁচবে তা ভিনগ্রহ দখল নেওয়ার যুদ্ধাস্ত্র তৈরিতে কাজে লাগবে। বেশ কিছু নেতার মত ছিল, সাহিত্য, সিনেমা, খেলাধুলো ইত্যাদির ফলে পৃথিবী অপবিত্র হয়ে গেছে, তাই মন্দির, চার্চ, মসজিদ এসবের জন্য একটা অপাপবিদ্ধ গ্রহ চাই। নেচারোপ্যাথির ফলে জীবাণুরা অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। মানুষের হাতে তৈরি প্লাস্টিক হজম করা ব্যাকটিরিয়ারা সমস্ত পদার্থ‌ই হজম করতে সক্ষম হয়ে ওঠে নিজেদের অভিযোজিত করে। তাদের পরিপাক ক্রিয়ার পর পড়ে থাকে শুধু কণাস্রোত। ফলে পৃথিবীর ব্যাস ও ভর কমতে থাকে, যদিও দেশে দেশে ক্ষমতার গদিতে বসে থাকা ধর্মগুরু ও খামারমালিকরা তা মানতে চাননি। উল্টে সমস্ত গবেষণা কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। সমস্ত গবেষক, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানীকে মেরে ফেলা হয় বা বন্দি করা হয়। আসলে বন্দি বিজ্ঞানীদের নেতাদের প্রয়োজনের অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ তৈরির কাজে লাগানো হয় গোপনে।  ২০৪৬ সালে পৃথিবীর আন্হিক গতি বৃদ্ধি ও দিন রাতের দৈর্ঘ্য কমে আসার ফলে বায়ুমন্ডলে
প্রবল উথালপাথাল হয়ে ১৪৭ টি ঘূর্ণিঝড় হয়। ফলে ২০৩২ সালের ১২৯০ কোটি জনসংখ্যা ৩০০ কোটিতে নেমে আসে। ওই ২০৪৬ কেই তাই রেডিয়াস কমার শুরুর বছর ধরা হয়। যদিও জিনিসটা আগে থেকেই শুরু হয়েছিল।

আমি উত্তর দিলাম “আপনি আশা করেন উন্নতি হবে?”  শুনলাম ওদিকে আমি বিড়বিড় করছি “আশায় বাঁচে চাষা”। সতর্ক হয়ে গেলাম। অর্থহীন কবিতা, ছড়া, প্রবাদ, কার্টুন, গান এসব ধর্মবিরোধী জনমত তৈরি করতে পারে বলে নিত্যপ্রয়োজনের কথা ছাড়া বাকি সব‌ই নিষিদ্ধ। আমি বললাম “আপনি কেমন কাটালেন সপ্তাহটা?”
-”আমার তো নিত্যদিনের এক‌ই কাজ, যে যেদিন আসে সেদিন তার ক্লোন হয়ে সঙ্গ দেওয়া।”
ধীরপায়ে গিয়ে চেয়ারে বসা আমার সামনে দাঁড়ালাম। আমার গালে হাত রাখলাম। উবু হয়ে বসতে, আমি ঠোঁট নামিয়ে আনলাম আমার ঠোঁটে।

২০৩৭ সালের ২৬শে জানুয়ারী দক্ষিণ এশিয়া সরকার তার নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দেয় সমস্ত মহিলাদের বন্দি করার। তার আগেরদিন সেদেশের সর্বোচ্চ কোর্ট রায় দেয় যে, মহিলারা মানবজাতির অপবিত্রতার উৎস। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সারা পৃথিবীর সব দেশ‌ই এক‌ই ভাবে মহিলাদের বন্দি করে। বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় নেতা ও খামারমালিকরা এই মহিলাদের ইচ্ছেমত তুলে নিয়ে যায় নিজেদের প্রাসাদে। পুরুষশিশু উৎপাদন হতে থাকে বিভিন্ন জেনেটিক উৎপাদনকেন্দ্রে। তবে ২০৪৬ এর আগে
শিশু উৎপাদন বন্ধ‌ই ছিল একরকম। কেবল উচ্চ পর্যায়ের ধর্মগুরুদের প্রাসাদ থেকে মাঝে মাঝে শিশুর অর্ডার আসত। বাকি বাসিন্দাদের জন্য নিজের ক্লোনের সঙ্গ নেওয়ার রায় দেওয়া হয়।

তৃপ্ত শরীরে শুয়েছিলাম। এখন সূর্য ডুবছে। ৯ ঘন্টা পরেই আবার উঠবে। সপ্তাহের প্রথমদিনের রোদ পিঠে মেখে আমাকে বিদায় জানিয়ে ইউরেনিয়াম তোলার খনিতে কাজ করতে র‌ওনা দেব। আবার দেখা হবে এগারো দিন পরে।

*বিস্ময়*

পূর্ণেন্দু গোস্বামী।

সোনালী রাস্তা মিশে গেছে পশ্চিমের আকাশে।
তখন ঝড় উঠে অগ্নিকোণে। অলস সূর্য মুখ ঢাকে কালো ধুলায়।
পাতা ঝরা গাছের মত বসে আছে তিলোত্তমা।।
তুলসী তলা প্রদীপহীন অন্ধকারে।। উপসুন্দ নাক টিপে আঁশটে গন্ধের চোটে।
নিঃশব্দে ঝড় থামে;
প্রদীপের আলোয় ঘরে ঢুকে পঞ্চানন।।
আর উঠেনা ঝড়;
দশ মাসই প্রদীপ জলে।। ভোর হলে শক্ত ঠোঁটের আঁচট খায় সলতে দুটো।।
তেলটুকু নিঙড়ে খায় ঝাড়ুদার কাক।
বসন্তের নিরস গোলাপ অপেক্ষা করে মদনের ফুলশয‍্যার।।
ছাই এসে উড়ে পড়ে গোলাপের গায়ে।।
প্রসব করে কামনার অবয়ব।। আবার সূর্যাস্ত হয়,সুন্দের সঙ্গে শুয়ে পড়ে তিলোত্তমা।

আমায়_নিয়ে_দেওয়াল_লেখা_হয়

পার্থ চট্টোপাধ্যায়

ছেঁড়া পোস্টারে, কাটা ধমনীর রক্ত লাল,
রন্ধ্রে রন্ধ্রে সংবাদ আসে আর যায় !
জনসম্মুখে কুঠারের পর কুঠার উঠলে
আমায় নিয়ে দেওয়াল লেখা হয় ।

আজও রুখে দাঁড়ায় তারুণ্য সন্ত্রাস
ছাড়পত্র প্রকাশের অপেক্ষায়,
শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে এলে শীতলতা
আমায় নিয়ে দেওয়াল লেখা হয়।

তপ্ত সংবাদে ছাত্রেরা দাবিদার,
ছিটেফোঁটা রক্তে আসেনা তাদের ভয় !
অশ্লীল ভাষা চোতায় চালানো হলে
আমায় নিয়ে দেওয়াল লেখা হয়।

যাদবপুরের মস্ত দেওয়াল জুড়ে
লেখা হলো যেটা, কিছুই সত্যি নয় ।
আমি তো কোনো সন্ত্রাসবাদি নই, তবুও কেন
আমায় নিয়ে দেওয়াল লেখা হয় ??

ঐক্যতান

                চিরঞ্জিত সাহা

বারুদ ধোঁয়ায় প্রভাত যে দেশ , কাঁটা চামচে কাটছে লাশ ;
আস্ত মগজ খাচ্ছে কুরে পিপীলিকা আর অক্টোপাস,
লাল, গেরুয়া , ঝান্ডা সবুজ — খেলছি হোলি, রক্তরাজ ,
দাবার বোর্ডে আমরা ঘুঁটি , কিস্তি জেতে শালিখ-বাজ ।
করাত দিয়ে কাটছে সমাজ , ল্যাবের গিনিপিগ মানুষ ,
নীলসজ্জায় রক্ষক হায় , পাশে সুন্দরী, বিয়ার , জুস ।
শিশুর বুকে মানচিত্র স্টেনগান রোজ আঁকছে লাল ,
সূর্যহারা সিরিয়া সকাল , ট্রাম্প-কিমরা খুঁজছে চাল ।
মধ্যাহ্নে অমার নিশা , দেশ যে মোদের ধর্মপ্রাণ —
কোরান হেথায় চিতায় পোড়ে , গীতার চলে রক্তস্নান ।
ধ্বংসজুয়ায় লাগাই বাজি , জেহাদি অথবা ধর্মবীর ;
মন্দির যে আমারই দেশের , মসজিদও তো শান্তিনীড় ।
তুলসী বাগান আলির উঠোন , জাগুক সেথা ঐক্যতান ,
মাদ্রাসা যাক হিন্দু শিশু , ঘুম ভাঙানো ভোর আজান ।
পথ বন্ধুর , চড়াই পাহাড় , স্তূপীকৃত শুষ্ক চর
পঙ্কিলতায় পদ্ম হয়ে ফুটুক মানবতার ঘর ॥