নিঃশব্দ আহামদ

প্রতীক্ষা

 

আর এই যে অস্বস্তি,আত্থযুদ্ধের মতো -কোনো কোনো হননেচ্ছা পেয়ে বসে-যেনো হাতে উঠে আসে

ঝিকঝিকে ছূরি,নিজের উপর ধৈর্য্য রাখা গেলে ফালা ফালা করা যায় হৎপিন্ড,নাড়িভুড়ি-তবু অসহ্য

এসব রাত৷

 

সবচে অসহ্য এই,চোখের ভেতর ইথারের মতো ভেসে উঠে কোনো মুখ-না সে বলছে কথা,অগাধ

নিরবতা

আর আমি,তাঁর দিকে থাকি মুখিয়ে,

না ,বলে না সে এতোটুকু কথা-শুধু আহবাণ হয়ে যাওয়া কোনো মৃত্যুর কাছে শামিল হয়ে গেছে

আমাদের অনেক অনেক প্রশ্ন,তবু শেষতক ছুঁয়ে যায়,সহানুভুতি আকর্ষণ তেষ্টায়,দিব্যি রেখে গেছে

কফিনে যেনো পড়ে থাকে লাশ,দুঃখ দুঃখ কিয়দকাল-

 

তবুও তো কারা যেনো নিয়ম করে কাঁদে,মৃত্যু শেষে

কে আছে এই ইহজগতে,নিঃশব্দ পাঠে অশ্রুর রেখে যাবে বিবরণ;না,কোথাও মায়ার এতোটুকু সাক্ষর

রেখে যেতে পারিনি,তাই সমস্ত কান্নার ভেতর কেমন নিস্তেজ এক শরীরে ,ঘুণে ধরা শিরদাঁড়া-

 

আরেকবার এসো,অন্য কোনো রাত-

সে দিন কাউকে বলবোনা, আজ আসতে পারে কোনো দূত,সংহার কৃতজ্ঞতা তাকে পেয়ে

দেবো,অসহ্য সহিষ্ণুতার ভেতর!

 

অভিষ্টতা পাশে শূন্যতা-

 

আমি বেরোলাম এই সন্ধ্যায়,সমস্ত নক্ষত্র থেকে বিচ্ছুরিত আলোর গুঞ্জরনে হামাগূড়ি দিয়ে সরে গেছে

আঁধার;অপ্রমেয় অস্থিরতা এক বুকপাশে আলোড়িত করে ফিরে আমায়৷তারপর আমি হেঁটে গেলাম

অনেকটা দূর-পৃথিবীর অভিলাষ সব কেমন হারিয়ে গেছে,যখন ছেড়ে গেছে এই যে ছায়া৷

 

এতো আলোর ভীড়ে,ঘনীভূত কালো সীমা জুড়ে রাখে চোখদেশ-ফ্যাকাশে ইপিল বনে ঠাঁই দাঁড়িয়ে

ছুঁয়ে যাই হাওয়া-আর্তনাদের মতো আওয়াজ তুলে সরে সরে যতোটা দূরত্ব-কাছ ডাকি অভিষ্টতা,না

এখানে শুধু শূন্য ভ্যাকিউয়ামের মতো পুরে রাখা ফাঁপা অন্তঃদেশ

প্রবোধের মতো তুমি এলে-

 

তারপর ছেড়ে গেছি কোলাহল,যুগে যুগে আমি পান্থজন

পথ পাশে রেখে অনেক অপেক্ষা -ছত্রখান হয়ে গেলে সমস্ত ভাবনার,জড়িয়ে থাকা শোক-

সব শোকপাশে প্রার্থিত রবে আমার ঘোর শূন্যতায়,তোমার ই সঙ্গপ্রিয় বুক৷

 

ভয়পাশে মৃত্যু

 

উজ্জ্বল একটা দিন মরিচিকার মতো চিক চিক করে হারিয়ে যাচ্ছে বেগতিক পায়,ক্রমশঃ আমি ভেদ

করে চলি,মাছের ডানার মতো এই অঘোর জলরাশির ভেতর

জলের কোনো শরীর-আর আমার চোখ মৃতপ্রায়-

হাঁ হয়ে থাকে ক্লান্ত বেশে যেনো বহুকাল৷

 

খসে যাওয়া পালকের মতো আহত এক পাখি বুকে

পুষে রাখি আমার অবাধ এক আকাশ-

আহা একদিন ,সমস্ত ভয়পাশ ছেড়ে উড়ে যাবে প্রাণবায়ু

দূরের গানে মাতোয়ারা হলে এই যে বিষন্ন এক আকাশ৷

 

সে দিন আমার বিচরণ কিংবা উপস্থিতির সমস্ত পদবিক্ষেপ মুছে ঝিমোতে থাকে দূপুর রোদ-

কোনো ছায়া আর প্রতিফলিত হবেনা করোজ্বল রশ্নি থেকে আমার বিপরীতে-এখানে যেনো আর আমি

নেই৷

 

তবু যেতে যেতে পেছন ফিরে আমি দেখি,ফেলে আসা পথ-সেখানে শূন্যতা এঁকে ঢেকে গেছে কাছের

সব দিন

অযুত বছর পরে যদি আসা যেতো আবার ,মৃত্যু পর

তবে এতোটা কান্না হতোনা,মৃত্যুর কাছে-

 

জানি,সে আর হবে না-শুধু নিঃশব্দ এভাবে প্রতিটি মৃত্যুর ভেতর-রেখে গেছে তোমার পাশে যাবার

-যেখানে আমার ঘুমের নগর,শেষবার তাকাবার মুগ্ধ জোড়াচোখ৷

 

সায়াহ্নের ক্লান্তি৷

 

গাড়িগুলো ছুটতে থাকে,বিদীর্ণ কুয়াশার পথে

মেঘ দেশে বৃষ্টির রূপ মেখে যেমন আকাশ চোখ-

আমার ভেতর হাহাকার হয়ে আসছে এমনো দিনে

কোনো মৃত্যুর ইশতিহার৷

 

ছুটোছুটি সব পথ,সম্ভাষণ রেখে মিশে যাচ্ছে যেনো দূরাগত কোনো দিনের কাছে

যেখানে উজ্জল কোনো রোদে আর এতোটুকু প্রতিসরণ

রেখে অদূরে থাকবেনা নিঃশব্দের কোনো ছায়া৷

 

যেতে যেতে এতোটা পথ,ক্রমশঃ জানান হয়ে ফিরছে

কোনো সায়াহ্নের ক্লান্তি,

মূক কোনো যুবা বেশে যেনো মুখস্ত এক জীবন শেষে

নেই আর এতোটুকু ছুঁয়ে যাবার আনন্দ ৷

 

এই ঘাসের দেশে,কুয়াশার ঘনীভূত আঁধারে

অলক্ষ্যে হেঁটে হেঁটে দ্যাখেছি আমি চোখের কাছে কেমন সেঁটে থাকে অনিমা চোখ-তুমি ই থেকো

আমার এমনো কোনো দিনে অন্তিম যাত্রাকালে,

 

শেষ হাসিটুকূ আমি যে রেখে গেলাম তোমার অধর মায়ায়,কখনো আর হাসবোনা বলে

বিভাগ:তথন, Uncategorized

উচ্চারণ ওয়েব ম্যাগাজিন

কথাদের স্পর্ধা

১ টি মন্তব্য

Arijit Kumar শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s