মো. আরিফুল হাসান

কবিতা দিবসের পঙক্তিমালা

 

এবং আমার পিঠ থেকে হেলান দেবার জায়গা সরিয়ে দিতে হবে

এবং ভুলে যেতে হবে যাবতীয় আয়েশ

 

রাতঘুম আর ঘুমরাতের তফাৎ ভুলে আছি

আর চোখ মেলে লাভ নেই, সমস্ত রোদ মিশে গেছে কালো ছায়ায়

দু’তিনটে নক্ষত্রের পতনের পর ভাববো যাত্রা পথের গন্তব্য কোথায়

কেউ জানুক বা না জানুক, আমি আমার কর্মে থাকবো শতভাগ সৎ

 

২.

তারপর আর কোনো আবেশ নেই, আবেগ নেই

কোনো ভাবনা চিন্তা নেই, এখোন শুধু উদাসীনতা



আর যারা চোখ মেলে থাকে

তারা তো দেখে মৃত মাছও কিভাবে চোখ মেলে থাকে



নীল জল আর সবুজ লাবণ্য শেষ দেখা কবেকার কথা

সেই কবে শুনেছিলাম ডাহুকের ডাক



আর দেখা ও রাতের সংলাপগুলো জমা পড়–ক নীল খামে

প্রজাপতি বন্ধি হয়ে আছে আলস্য কারাগারে।

 


৩.

তিন তিনবার তুমি মৃত্যুর কথা ভুলে গেলে

এবং পঞ্চমবারে তুমি জেগে ওঠলে নির্ণিমেষ



কেউ জানলো না, তুমি তার ঘুম ভাঙিয়ে দিলে

কেউ জাগলো না, তুমি তাকে বলে দিলে সব কথা



হঠাৎ এ অস্থিরতাই সৃষ্টির অযাচিত রূপ

তুমি তাকে বললে বিষাণ, হায়রে পাষাণ!



তুমি চোখ মেলে দেখতে থাকো আর থাকো ভালো

যদিও তোমার চোখ আগেই উপড়ে নেওয়া হয়েছে



৪.

কেউ রাত ভাবলে তুমি তাকে ভেবো ঘুর্ণি

পূর্ণিমা রাতে, কেউ কী জেগে থাকতে পারে?



মজার হলো সাপ-লুুডু খেলার গুটিটি তোমার হাতে নেই

তাই বলে আমাজনে যে বন্যা হবে না এমন তো নয়



কেউ চাইলেই মুখ লুকাতে পারে

কেউ থাকে নিমগ্ন ঘুুমে, অবহেলায় দিনরাত্রী যায়

 

৫.

শব্দেরও সমীক্ষা থাকা প্রয়োজন

যেমন তোমার পাপ-পূণ্যের হিসাব



অপেক্ষা করে বলতে ভুলে গিয়েছিলাম আমিও ভালোবাসি

তারপর কেটে গেলো কত রাত, কত ভাষা হারিয়ে গিয়েছে!



৬.

জীবনকে যোগ বিয়োগ গুন ভাগের হিসেব শেখাতে নেই

এতে করে জীবনে লোভ চলে আসে



আমাদের আদীম সংসারে

অনায়াসেই এক কাফেলা যাত্রী হতো

আর পরস্পরে সাথে মিলিত হতো নিজের প্রতিবিম্ব ভেবে



তারপর থেকে আকাশ বিভক্ত হতে শুরু করলো

আর ম্যাগনেট রাজ্যে ভীড় জমালো রবিনহুড।



৭.

সাত সপ্তাহের অধীক সময় ধরে তল্লাসি চললো

তারপর যে যার মতো নিজের রাজ্যে হারিয়ে গেলো আবার



আর আমরা চোখ মেলে দেখলাম ক্রাইস্টচার্চ

এবং দলবলে গুনতে লাগলাম আগুনের ফুলকি



নিজের নিথর দেহটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে সময়

এবং যা বলার ছিলো তা আর বলা হলো না।



৮.

সবুজে সবুজ দেখে নির্ঘুম প্রেতাত্মা সকাল

সকলে দলবেঁধে ছুটলাম তীর্থ যাত্রায়



ফাগুন আসার আগেই পেরুতে হবে পথ

নতুবা ধূসর সন্ধ্যায় ধরা পড়বে যৌন বিভা



নিজেকে হারালে খুজে পাওয়া যায় না

নিজে নিজে হারালে একেবারেই না



৯.

মাতালরা দলবেঁধে হাঁটে

আর পরস্পর থেকে থাকে শতেক যোজন দূরে



নিজেকে অস্তি ভাবলেই চর্মসার হবে

এবং বোরকার আড়ালে ঢাকা পড়বে বাস্তবতা



কি বিচিত্র, দেখেছো দু’চোখে?

তুমি চোখ বন্ধ করে রাখো বা খুলে রাখো

তাতে কিইবা আসে যায় অমাবস্যা রাতের?



১০.

লাল মৃত্যু বিপরীতে আমি দেখি সবুজ জীবন।



এসব তোমরা বুঝবে না

তোমরা শুধু অংক কষতে আর আতঙ্ক ছড়াতেই

শিখেছো আমৃত্যু



অতএব কী লাভ হবে জলসা ঘরে যেয়ে?



না, নান্দনিক জীবনের উত্তরাধিকার প্রশ্ন নয়

এমনিই ঘুম চলে এলে

আয়নায় তোমার প্রতিবিম্ব দেখি

বিভাগ:তথন, Uncategorized

উচ্চারণ ওয়েব ম্যাগাজিন

কথাদের স্পর্ধা

১ টি মন্তব্য

Arijit Kumar শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s