পল গগ্যাঁর “তাহিতার জার্নাল” পড়তে পড়তে। অনুবাদ অরূপরতন ঘোষ

এক (২৫শে জুন, ২০১৯. ১৯:৪০ সন্ধ্যে)

মাদারি রঙের স্তন, কিছু দূর গিয়ে গিয়েই প্রবালে বাঁধা সৈতক, জলস্রোতের আক্রোশে ফাঁপা নরম হয়ে যাওয়া বুড়ি গাছ, প্রথম কুঠারের ঘায়ে তার নগ্ন রুমাল। মুখ মুছে নিয়েছি অল্প। দূরে বসা যুবকটি মাদারি, নৌকার খোলে ওই নারী অর্ধ উলঙ্গ তারই অপেক্ষায়

আমার কুটিরেই এখন, মোম তার আলো শতছিন্ন শরীর খোলা পোষাকটি ওই দূরে বিছানার পরবেশ। শরীরের উপভাগে যাকে নিয়ে আমি, তাকাই তার দিকে অল্প

স্তনের গন্ধ পাতা কলার ছাওয়া। বাঁশের হালকা ফুঁ

ধোঁয়ার পাশে নিভন্ত প্রদীপ। আলতো হাত বাড়িয়ে পেন্সিল তুলে নেই আমি, আঁকবো। স্তন

এই নারীর। শুধু একটি মাত্র স্তন

মাতাল বেড়ার ফাঁক গলে কুমড়োর কয়েকটি চারা। মাদারির যেমন তেমন বয়সী শুক্লপক্ষ তার নিজের রঙে

মুখ লাগিয়ে অল্প পরিষ্কার করে নেই কাঁপন দু হাতে ধরেছি এখন। অল্প আধো অল্প

Dusk

দুই.

কিছুক্ষণ চোখ বোজাও, শোনো পাহাড়ের ফাঁকে সেই জল তার দূতাবেশ, ভাঙা পাথরের ফাঁকে খাঁজে অপরিচিত সেই সব দেহ, উলঙ্গ রমণী তার শরীরের ভার।

মাথার কাছে রাখা আলোটা অল্প জ্বলছে। তাকে দু হাতে তাড়াই। শুকনো লতা কয়েকটা আগুনে জ্বলে। দূরে পাহাড়ের মাঝে এখন যে পথ অন্ধকারে অন্ধকারে ঈশ্বর দীর্ঘায়িত অবসরের পর, যেন ওই দূরে তার খুলে রাখা। মানব তিনি এখন, যুবক এক। এই উষ্ণ নদীক্ষেত্র, পায়ে চলা পথের বিচ্ছিন্নতা এক রমণী দু বাহু নামিয়ে অল্প জলের খোঁজে নিজেরই। ঈশ্বর মুখ রেখেছেন সেখানে। থামানো, থামানো জলপ্রপাতের শব্দ থমকে। উঁচু নিচু গিরিপথ। ভাঙা কোমরের নিচে ফার্ণ লতায় জড়ানো আসক্ত এই উপত্যকা

কয়েক টা পাঁকাল জল ভেবে আঁকড়ে নিচ্ছে আমার পা। তাদের পিচ্ছিল দেহ

তিন

নিজেকে অনুসন্ধান। জোরে একটা নিঃশ্বাস নিলাম, কাঁচা কাঠের গন্ধ, বন লতা পাতা পায়ে জড়ানো না চেনা অচেনা শরীর। এই মধ্যভাগ থেকে অনেক অনে     এএএ ক দূরে কোথাও। কাঠের গায়ে কুঠারের হাত পড়ছে। অপরিচিত কেউ।

কে?

এই ঘর, লাল চাদরে আলোয় সাদা বসে থাকা আমি নয়। ঘরটা অন্ধকার করে দিলেই হয়। বলে উঠল কেউ।

না! ভেতরের মানুষটি দাঁড়িয়ে পড়েছেন। কুঠার থামানো। কপালের ঘাম

পিছনে সমুদ্র। আ নিয়ন্ত্রিত নীল জলরাশি। ফাঁকে ফাঁকে আতরের দ্যুতি পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে

মানুষটি কুঠার তুলে নেন। এক ঘা। গাছ মাঝখান থেকে পাথরের ওধারে

আমি কি কাউকে হেঁটে আসতে শুনবো, এর পরে?

মানুষটি শরীর খুলে শুয়ে পড়েছেন। পরনের অঙ্গে পরে থাকা লাল ছাল কিছু পাতার। ওই দূরে আগুনে পুড়ছে। ওপরে কয়েকটি সেঁকা মাছের ছাল

চার.

খুব দৃঢ় এক পলক এক ঘুঁটি যেন, দাবার পথ থেকে সরে সরে। মাঝে হুঁশ হলে পাশে সরিয়েছি আমি ও কে। পদ্মের ভার থেকে নেমে আসা জোসনা। ওই যে দেহটি উলঙ্গ, পোষাকহীন ঘাটে দূরে আলোর নীল বাসন, খুব ধীরে জল পড়ার শব্দ কোথাও। যেন নদী পসারিণী বেসে

সমুদ্র হাহাকার

আমাদের বাঁশের শয্যা থেকে আমি এখন দূরে, ক্যানভাসের সামনে দাঁড়ানো। ওই পাশ ফেরা পায়ের ওপর পা জড়ানো গদ্যে আধো ঊনবিংশ হাহাকার

তুলিতে রঙ রাখালাম। কালো হালকা পাপাই রং প্যাপিয়া বেশে সরবে শরমে

ওই যে দেহটি পোষাক। আধো হাতে ও কে জাগিয়ে রাখছি আমি। বুকের খাঁ ধূয়াতার নিন্ম অতলের

ওই খাঁড়ি দুধভাস্য জলতল

কিছুটা আঙুল ঠেকাই দেহে, নরমে

ধীর করে শোয়ানো চমকে উঠেছে ও  …………

কোনো পাহাড়ের খাঁজে সমুদ্র ভাঙন। আলোর রাখি। অপদেবতা পাউপাস

পাঁচ.

খুব দূরে কাঞ্চন ফুলের জঙ্গল। সেখানে আমরা ফিরতি পথে প্রায়ই দাঁড়াই। বুনো শামুক, হেঁটে চলা ময়ূরের পালক আর অজানা শব্দে সাজানো না না নানা ধূয়াতাল। খুব পরিচয়ের পর নিজেকে যখন একা মনে হয় বা এমন হয়েছে যে পাথরটায় এখন বসে আমি তার দূরেই একটা হ্রদ। জলে মুখ দেখা যায় না অথচ পাথরে পাথরে ঠেসাঠেসি। গহীন জলের দেবতা যেন আরো কিছু খালি পায়ে আরো একটু অধিক নিজেক মোড়া

এভাবে খুঁজতে খুঁজতে সারা পথ হাঁটি আমরা। আমি আর তেরাই, আমার মাদারি বৌ। ও র কালো চুলের কাঁচে সোনালী বর্ণণ। কোনো পশু ডেকে ওঠে। শূয়োর বুনো। তেরাই একটা ছোট্টো শজারু মেরেছে। কাঁচা হাতে তাদের শরীর ছেড়ে কাঁটা বাছাই

শব্দে শব্দে এখানে ঘুম ভাঙে। একটা পূর্ণদৈর্ঘ্যের কলাপাতা, মাঝে কিছুটা মোচড়ানো, তার উল্টোপিঠে আমি আর তেরাই শুয়ে এখন। পাশাপাশি। বর্ণ হীন

কালো কিছু মাঝের রাত, আকাশে সারি সারি জেগে থাকা। দেখছি আমরা একে অন্যকে, চোখে

চেটে

ছয়।

খুব ভোরে এখানে বাতাস লাগে। শুনশান এক মারভি হাওয়া, আকূলের দেশ জানো কোথা    য়? এই প্রশ্নটি আমি ও র ঠোঁটে ছুঁড়ে দিয়েছি। ছুঁয়েছি, আপাত্য অবনীল দূর দূর ভাসমান ওই যে জেটি, ওখানে সবুজ পাথরে মানবতার ছাই। দেবদেবীরা এমন কথা বলেনই, বলেন এই পৃথিবী কমতে কমতে একদিন, চাঁদের ঘরে সেদিন নতুন পুত্রের জন্ম, তেরাউয়া। আগত নীল বাঁশে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি বাসা বাঁধছে, এখন সময় উপত্যকার। আর কিছু বর্ষা পরেই, ঘন কালো সূরজে ঢেকে যাবে এই মাদারি। বংশম্ভূত শেষ জীবনটি কপিলাবস্তুর রাত, ক্ষয়ী নদীর তীরে

হাত ছাড়িয়ে জাহাজে উঠেছি আমি। দূরে দাঁড়ানো তেরাই, আমার বৌ। ও র কানের ফুল খোঁপার পাশ খুলে।

ঐ ঐশ্বরিক রাত  আগুনের চারপাশে সেঁকা কলা মাদারির আদিম শব! আ! ছিটকে পড়ছে যেন, যেন রোদের পথ ধারাবিবরণী সাজিয়ে

কয়েকটা কবিতার লাইন মনে আসে। এই উপদ্বীপেই শোনা। তেরাই তার শরীরী পথ, মাদকীয় রাতে

“সেই গাছটি যার ছায়ায়। এ প্রান্ত

হে বাতাস বলো তাকে  ……. “

সমুদ্র ভাসতে ভাসতে পিছিয়ে পড়ছি আমরা। এখন আর কিছু দেখা যায় না। জলের গায়ে বাতাসের নীয়্জ।

তারোয়া মাছ ধরছেন। তার জিভে ছিপে পৃথিবী আদিম

হ্যাশ ট্যাগ

উচ্চারণ View All →

আমাদের কথার

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: