বিদেরাই

 

 

12830f3d-4516-4a63-9a29-6b5637d5f3d6.png

তার দক্ষিণদিকে চিরখাতে বয়ে যাচ্ছে তর্ভা নদী। এ দেশের একমাত্র সুখচর। জল যদিও খুব সামান্য থাকে এখানে, তবু দেখা দেখা সুখগুলো, প্রান্ত শুকনো খটখটে নদী, তার মধ্যে যাবতীয় খড়কুটো জ্বেলে রাত বা কখনো তা প্রহরীরা। এ মাঝেরই পশ্চিম চরে, চালা বেঁধে এই ক দিন কয়েক হলো এসে জুটেছেন, বিদেরাই। তিনি আর তার সঙ্গী পুরুষ কমলমোহন। দেশ জানে না, দেশ জানে তারা নারী পুরুষ, একে অন্যের কদরে নিজেকে নিজেকে ঠাঁই পেতে এই বন্যান্তর। কমলকে যদিও ঠিক পুরুষ বলা যায় কিনা, বিদেরাই জানেন না। তার অঙ্গশোভা। বুক থেকে চিরে নামা দ তারপর পেট, অহিমুকুর হয়ে সম্ভবা। এখানে হা করে চেয়ে থাকলে, আক্ষরিক অর্থে হা এই। একখানা বোয়াল মাছ, আধো আধখানা, যেন পুরো মুখটা সুপুরির ছলে, নিজেকে ধরতে যাবার ছলে এ মাটি থেকে ওই মাঠ, পর নকুল বেশ। কমল স্নান করছেন এখন। বিদেহের সবচেয়ে প্রিয় মুহুর্ত। এ সময় তিনি যেন কমল নয়, নিজেকে দেখেন। নিজের জলের ভার দেহ, কাঁধ হালকা ঠেলেছে, মৌখিক গড়িয়ে ভান হতে হতে বুকের এই কষ! আ! বিষকানি পাত্র যেন উজাড়, যেন কেউ দেহের বিষ সারাঅঙ্গে মেখে মথিত, আর মথিত হচ্ছেন তিনি, তার নিচে উপরে দেহাপতিরতা কোমল! কঙ্গগমনে সুখের সুখের যে চারধাম চৌর্য বৃত্তি!
না! সামনে থেকে সরে আসেন বিদেরাই। তিনি আসলে যেন খুব ধীরে কিন্তু মৃদু বুঝতে পারছেন, কমল নয়, তিনি অন্য অন্য মনে, ধীরে ধীরে নিজের রাই, নিজের ভেতর আলাদা করতে করতে।
পলকা বা ভাসির গুঁড়ো, সুখচাঁদের এই রাতে তিনি ঘর ছাড়লেন, ঘর খোলা দোয়ার, ঘুমন্ত কমল। কোথায় যাবেন, বা যাচ্ছেন তিনি জানেন না, কিন্তু জানেন, তাকে যেতে হবে, যেতেই হবে। খুঁজতে। রাইকে। বিদেরাইয়েরই কে সে রাই! কাকে তিনি নিজ হাতে! তাকে খুঁজতে

অহনা সরকার

#নভেম্বর

২০১৯

উচ্চারণ View All →

আমাদের কথার

2 Comments এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: