পাহাড় দেখা

DSC_5813-01

লম্বা লম্বা পাইন গাছের ভেতর থেকে যে শহরটা বেঁচে ফিরে এলো, তার নাম দার্জিলিং! বেঁচে হয়তো ফেরার কথা নয়, তবু যাই হোক ভেন্টিলেশন বা বরফ যা হোক তাকে তখনকার মতোন বাঁচিয়ে দিয়েছিলো। এখন তো মনে হয় না বেঁচে আছে কি! চারিদিকে এত এত ভিড় দেখি আর এত এত কোথায় যাচ্ছেন গরমের ছুটিতে বললেই, সাধারণ একদম হাত ধরা ছোঁয়ার মধ্যে দার্জিলিং উত্তর মাস্ট। আমার দাদাকেই দেখেছি বছরে কমপক্ষে দশবার দার্জিলিং যেতো! তার একটা কারণ অবশ্য আগে ছিলো, শিলিগুড়িতে গার্লফ্রেন্ড। কিন্তু বৌদি নিদেনপক্ষে বাড়ির কাছে হওয়ায় ওই দশবার যাওয়াটা পরে একটু হলেও! তবে এখনো রাত বিরেতে হঠাৎ মনে হলো বেড়াতে যাবো, অবশ্যই বৌদির ছুটি থাকলে, আমার দুই ভাইঝি দাদা বৌদি মিলে কোথায় চলেছে! না দার্জিলিং! আর দাদার মুখেই শোনা, ওখানে কোথাও নাকি কোন হোটেল, অধিক ব্যয়ের হোটেল নয়, সাধারণ দিনমান, সেখানে চরম সুস্বাদু ডিম সেদ্ধ পাওয়া যায়।

দূর্ভাগ্যবশত বশত আমি কখনো দার্জিলিং যায়নি। যাবার ইচ্ছেও বোধহয় তেমন এখন অন্তত খুব একটা নেই! অতি ভিড় আর অতি নোংরা! এমনিতে পাহাড় খুব একটা ভালোও লাগে না! কেমন যেন একটা মাথা উঁচু বড্ড বড্ডই ইয়ে! যাক গে তবে দার্জিলিং এর ওই ঘন পাইন বন, তার মধ্যে দিয়ে নীল কুয়াশা সিনেমায় দেখেছি, এমন সত্যি দেখা যায় কিনা তাও জানিনা। পাহাড় লাভালদের জিজ্ঞেস করা বৃথা, যা আপনি ভালবাসেন তার অগুণগান! চান্সই নেই
তবে আমি যখন গ্যাংটক গেছিলাম, এই একটু আগেই একটা বই পড়তে পড়তে অদ্ভুত ভাবে আবার মনে পড়লো। তো আমরা যে হোটেলে উঠেছিলাম, বলেছিলো ভোরবেলা মেঘ না থাকলে হোটেলের ছাদ থেকে নাকি অপূর্ব কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। তো সেইমতো এক বেশ পরিষ্কার সকাল সেদিন, সারা হোটেলে যত লোক ছিলো সব্বাই তখন ছাদে। ধুর ছাই! কোথায় কি! কেউ সামনে নেই! আসেই না। বিরক্ত হয়ে ছাদ থেকে নেমে আমি হোটেলের সামনে বেরিয়ে এসেছি। হোটেলের সামনের যে রাস্তাটা, হোটেলটা শেষ হয়েছে যেখানে তার পাশ ঘুরে এগোলেই সামনেটা ফাঁকা পুরো! ফাঁকা আর রাস্তার মাঝে খাদ। বেশ পা ঝুলিয়ে বসার জন্য দারুণ। ওখানে এদিক সেদিক ঘুরবো বলে নেমে গেছি। সামনে দেখি মুনু দাঁড়িয়ে, আমাদের পাড়ারই, সো দুজনে ঠিক করলাম হাঁটতে যাবো। হোটেলের বাঁকটা জাস্ট ঘুরেছি সবে ডাঁয়ে তাকিয়ে দেখি! সত্যি! বহুক্ষণ জানি না বেশ কিছুটা তো অবশ্যই কি মানে কি কিই! সেটা! সামনে স্পষ্ট চকচকে দাঁড়িয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা! ওপরে চূড়ায় রোদের হলদেটে হালকা আভা! ছাদে যারা দাঁড়িয়েছিলো তাদের ডাক পাঠাতেই! দু চারজন দেখতে পেয়েছিলো! বাকিরা আসার আগেই পাহাড় আবার আড়ালে তখন

কিন্তু প্রথম কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা! পাহাড় আমার ভালো লাগুক ছাই নাই লাগুক! ওটা একদম আলাদা একদম সমস্ত কিছুর চেয়ে

অহনা সরকার

#২০২০এপ্রিল

#bangla, #banglalekha, #banglablog, #ahanasarkar, #uchcharan,

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s