পেয়ারত্ব

2019-12-30-18-14-50

একটা কুকুরের মাথায় গুলি চালালাম
ডুম্মুস্
সব খুলি চোখ নাকের চোখ মুখ যে নিঃশ্বাসটা তখনই টেনেছিলো ছিটকে পড়েছে। তার মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকে খুঁজছি এখানে কি আমিও কিছুটা আছি? একটু! ও তো আমাকেও দেখছিলো একটু আগে বিস্কুট দিলাম একটা চেটে চেটে খেলো, এই আঙুলে ডগায় নখে জিভ টানার বশ দাগ।
পা দুটোকে ছটিয়ে জিভটা কাৎ মেলে শুয়ে এখন
রিওয়াইন্ড করা যাক। পিস্তল বুলেট ফিরিয়ে দিলাম। কুকুরটা ধান গাছের গোড়া টেনে টেনে খাচ্ছে। ও কে যদি কুকুর না বলি? আমার মন। ধান্যসারের গোড়া টানছে গোড়ায় দেখবে কত জল জমে আছে কত কত লাজ ক দিনের পেয়ারত্ব। একটা ভুঁইফুলের মধ্যে একদম মাঝখানের অংশটা হলদু সাদা তারপরের কালো ফুটো জল দিলে এককলি। জল কি যাচ্ছে ভেতরে? গড়াচ্ছে?
জল তুমি কি যাচ্ছ ভেতরে? গেলে? না থমকে আছো কোথাও! হাঁক পাড়ি। ও পিছন মুড়িয়েছে, ঘোরানো বাঁক কাঁধের কোন। জল ঘাড় ঘোরালে কেমন লাগবে? জল ঘাড় ঘুরিয়েছে ঘোরাচ্ছে দুটো গোল মাঝে একটা পেন্সিলের সাদা লাইন শেড্ হ্যোয়াইটনার
ঝরা বিন্দু বিন্দু জলে পাকানো পাকের পাপিয়সি। প্যাপিরস। পাকা গাছের ছাল। ছাল তুলে নিলে পুরোটা টেনে। ইশ! আমি এখন ন্যাংটো! দু হাত চাপা দিই স্তনের বুক ঢাকা খালি পরণের অঙ্গগুলো নিচে পড়ে আছে দেখছে আমায় তাদেরও খালি হাত ন্যাংটো তারাও

অহনা সরকার

#ডিসেম্বর

বন্ধুরা

2019-12-27-18-44-12

বন্ধুরা ঘুমিয়ে পড়েছেন, বন্ধুরা সবাই জেগে বন্ধুরা এ ওর হাতের মুঠো কাঁধের ভার গলার বন্ধুরা সবাই
চেঁচিয়ে উঠলে
হাতের মুঠো আধখোলা কনক মুঠো এমনি ধরা আছে পড়ে মাটিতে জলে ভিজছেন জল রাতের শিশির সন্ধ্যার হিম কনকনে হাত আঙুলে আঙুলের পাতার মাঝ রাখা যেভাবে আঙুলগুলো
পেল্লাই চাঁদতারার ঘরে বাকি অন্ধকার কালো খুঁটি খুঁটি খুঁট ধরে হাঁটেন উনি কোমরে একটা হাত মাজা ভাঙা। পা কি যাচ্ছে পড়তে জানে!

অহনা সরকার

#ডিসেম্বর

শব্দ! খুঁজছি

image_search_1575213535812

শব্দ। চুপ করে বসে থেকে খুঁজলে হাত বাড়িয়ে দিয়েছি ভেতরে শুকনো লতা পাতা মাটি উনানের ডিবা পোড়া রোদ হাত ঢুকিয়ে ভেতরে জমে থাকা নাড়ি ভুঁড়ি মাটির শুকনো গায়ে গায়ে জমে থাকা প্রতি ক্ষরে অক্ষরে শরীর কালো জলের ভিজে আকার অভ্যাসে আ আকার
মাথা তুললে এই ওপর দেখো তাকাও আলো চোখ বুজে আসছে বসে নেভানো তার গায়ের তাক্। কালো যে দাগটা কালো রেখারঙের টিকা কপাল বাড়িয়ে চন্দন। ভেতরে মুখের কাছে নাক কণা কণা প্রতি কণা আঙুলের রেষ
হাঃ য়আঃ
মুখ নিচে নিলে ভেতরে! আগুনের ভেতর মুখের গলা তাপ তাত ছাড়িয়ে জড়িয়ে

অহনা সরকার

#ডিসেম্বর

(ছবি সংগৃহীত)

দূর

 

8ea0139b9a38038ccba21de6659eb6db.jpg

চ্যাঁচানিটা ইকো হচ্ছে ফিরে ফিরে আসছে ধাক্কা। শব্দের ধাক্কা। শব্দ দ্রুত থেকে দূতর ত্বরা তাড়াতাড়ি হাঁটার ছল হাঁটতে শিখে হাতিমতাই আমরা জড়ো করা মাছ ও মছলিগুলি লছমনঝুলা কাঁধে বার বার বাঘদন্ডি। সমূহের ওপর থেকে ফাঁকা পড়ে থাকা নিষেধ ঝুলন্ত দূরন্ত। কামড়াগাছি পেরোনোর পর আমরা জানি

বুকের পেটের সমদূরত্বের মাংস। দূর নৈনিতাল

অহনা সরকার

#ডিসেম্বর

বেদিনী পাতা

IMG_20191217_200600_833

বাইরে কেমন তীর তীর হাওয়া উড়ছে। নানা রঙের প্রজাপতি। পাখিগুলো ডাকছে দেখা যাচ্ছে না। একটা চিল বা বাজের ছোটো সামনের ডালটায় বসে। শিরিষ পাতার গাছ। এখনও ঝরা বাকি। মাঝে মাঝেই তীব্র বিকট চিৎকার করতে করতে আকাশ জুড়ে পাখনা মেলা! তাদেরও দেখা যায় না। দেখি নি কোনোদিন।

আশ্চর্য এই যে এত কিছুর মধ্যেও কানে এসে লাগা ঠান্ডা। দেশদ্রোহীতা! ট্রেনের শব্দ। ট্রেনগুলো আজকাল বড় দেরী করে যায়। বড় দেরি করে তার ছেড়ে আসা খোলা গেট সদর মাঝের পাঁচকানের বয়সগুলো নীল আরো একটু দূরে বেশ অনেকটা দক্ষিণ ছাড়িয়ে পায়ে হাঁটা পথ ভূমি নেমে গেছে। এখানে থামলে দূর দূর কিংশুক বনারণ্য মাঝের গাছগুলো তল্পিতল্পা বেশ কিছুটা সাজানো অগোছালো খেঁজুরের কাঁটা রোদের দাঁড়ি এটা কি গাছ! বড় বড় পাতার ফাঁকে রোদের এক চেরা রোদ এখানে তেমন কিছু নেই পুরো জঙ্গলটায় পুরোনো মীত শীত সবুজ কালি গন্ধ ধোঁয়া ওঠা। হাতের মুদ্রায় ঠিক তিন আঙুল জড়ো বেদিনীর পাতা বাদাম কয়েক কোষ আর হিস্! শব্দ ছুঁড়ে ছুঁড়ে আগুনে ফেলছো তুমি। চোখ বোজা। গলার কাছে কোলে গলায় পায়ের মুখে

অহনা সরকার

#ডিসেম্বর

কিন্তু!

DSC_3784.JPG

এই রাস্তাটায় এখন হাঁটছি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অন্ধকার। রাস্তার দুধারে শুধু আলো। মাঝে মাঝে বাজি ফাটার শব্দ আসছে, কোনো বিয়েবাড়ি সম্ভবত। বাকিটা অদ্ভুত আলাদা নির্জন। আমার পাশে পাশে একটা কুকুর হাঁটছে শুধু, বোধহয় পাহারা জানাতে। বাকি রাস্তাটা ঠান্ডা! অকূলান শীতের মতো মায়াবীয় কোনো দাদু যেন একমুহুর্তে তার দাড়ির ছায়ায়! এই মাঝখানে ঠিক এই মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ ভীষণ ভয় করলো! কিসের ভয় জানি না! আকাশ যেটুকু দেখা যায় অদ্ভুত কালো আজ, নরম

কাউকে মনে পড়লে, তখন খুব মনে পড়ে

অহনা সরকার

#ডিসেম্বর

ঘুম

20191210_123119

ঘুম পাচ্ছে। ঘুমন্ত চারিধারের মধ্যে দেশ বিদেশ দেখতে দেখতে কেন জানিনা আমার খালি ঘুম পাচ্ছে! চারিধার। চারধারে শুধু না সমস্ত ধারে পোষাক পরা পরা উবু হয়ে ঘুমেরা বসে। তাদের মাথা নিচু। দু হাত দিয়ে মাথার খামচাটিকে চুল ধরে ঝ্যাঁকাতে ঝ্যাঁকাতে মাঝে মাঝে বেগুনপোড়ার স্বর! হাতের মাঝে টুপটি করে বসে উকুন মারছে। এত মাথা কেন জটায়? চুল আঁচড়াস না! হ্যাঁরে!
ধুমুড় করে কাৎ হয়ে শুয়ে পড়ল সে আমারই ধারে। তবে শোয়নি! মাথাটা নামিয়েছে শুধু। এই যা যা! যত রাজ্যের উকুন মাথা ভর্তি!
একটা অদ্ভুত গন্ধ নাকের চারপাশে ঘুরছে কাল থেকে। কাল লেখাটা পড়ার পর থেকে! লেখার ভেতরের ভর্তি ভর্তি গন্ধ! আমার সারা নাকে! নাকের সারময়। টোকা দিলেও আবার ফিরে ফিরে আসছে। আরো আরো সাড়া শব্দে। একটা ক্রিয়াপদ যেন! ক এ রফলাটা দেখতে পাচ্ছি! উঁচু কাৎ হয়ে পড়ে আছে! কোমর বেঁকানো! নিজেকে কি উঠতে চাইছে! না শোবে বলেই! গন্ধ ওটারই! ছিঁড়ে ছিঁড়ে ভেজা ভেজা কাঠপাখি পালকের ন্যায়

অহনা সরকার

#ডিসেম্বর

সুজাত

IMG-20191209-WA0001

পুরুষাবৃত্ত। অণুক্রমিক কালে আমরা সবাই বিরাট। চাঁদের হাসি হেসেছে। হাসি হেসে লুটিয়ে যাবার পর। লুটোয়পুটি পুটপুট
গাছের গোড়াগুলো ভাঙছে। অগ্নিমন্ত। কান্তবিহীন দেশে। উপরাজা আমরা সবাই। মনের কোণে মাছিরাঙা একটা দিন আছে, চোখ পড়লে হাত তাড়ানোর ভঙ্গি। কাঁদতে কাঁদতে কাহানীয়া বেশ। বিরাজউপ্যমান
মানবীয় মানব পদ। পদবি।
নাম জানি না এ বেশেই চারধারে লক্ষ লক্ষ সুজাত। তাদের কাহার বেশ। কানে বেশ লম্বা পদক গুঁজেছে হাত ছাড়াছাড়ি। ছড়িয়ে পড়া বিবিধ। মুখ বাছতে বাছতে বুঝি
ধান আর বিশ্রাম একই পরকের মহানিত। মহিম গাছের হেলানে ঠেস দিয়ে সেই কখন থেকে বিড়ির একটাই ধোঁয়া এক এক জ্বলন উপমন্ত্রে
মরণ আধাখানি দ্বেষ দাও না চেখে দেখি!

অহনা সরকার

#ডিসেম্বর

দ্বন্দ্ব

9e844e92-fd88-43b7-89ba-faeea32bb0ea.png

শরীরের যাবতীয় ছন্দ থেমে আসছে। দ্বন্দ্ব। মুখের সাথে মূক ও ভঙ্গি। শব্দ কথা বলে। শব্দ! ছেড়ে যাচ্ছি আমরা। আমাদের। আমোদতম
অন্ধকার রাস্তায় হাঁটলে এখনো চাঁদটা দেখা যায়, জানলার ওই কোণা ধরে
শব্দ। আমরা ভাঙছি। চুরি যাবার পর যাবতীয়

২.
একটা শরীর কাঁপছে, কাঁদছে। ওকে আরো কাঁদতে দাও। কাঁপতে। শীতের মতো। অ খন্ড চাদরে কুচি কুচি করে কাটা তপস্যা পুরোনো গুলমোহরের দিনে
কাঁপতে কাঁপতে কাঁদতে। কাঁদা শরীরগুলো কেমন হাড় হিম হয়ে গেছো দেখেছো? পাহাড়ি ঘর, বনপাহাড়ি
পায়ে চলা পথগুলো একান্তই মিতব্যয়ী। শরীরে। শরীরের ওপরে গড়হাজিরি ডাক
খাঁচায়। রাত ঘুম

অহনা সরকার

#ডিসেম্বর

শ্নিশ

SmartSelect_20191129-181406_Gallery

মাটি জড়ো করে করে একটা গাছ। শ্নিশে। নীল সবুজ কেন্দ্র অধরা। নীলের আলোটা হালকা জ্বলেছে হালকটা উপরে তাকালে সোজা টান টান, গহীন শন্নবেশ। আঙুলে ঠেকিয়ে দেখছি। নাড়াচাড়ায় কাঁটা ছেঁড়া পথ ও পথ। মুখে ঠেকালে ঠোঁট নিঃশব্দ। একটা হাত গুটি কতক আঙুল নরম হাত বাড়িয়ে নিঃশ্বাসের মুঠি। নাক পরিহার দেহ কোঁচানো পাড়ের শাড়ি লাফিয়ে হাতের ভাঁজে ভাঁজে কুঁচিগুলো। সেফটিপিন নিয়েছে একটা, জিভে কেটে
পুরো আলোটা এখন ছুঁই ছুঁই অল্প কাঁপছে অল্প কাঁপন। নাক ছোঁয়াচ আমি চিরে, আরোর মধ্যে বসা এখন। আঙুলে হাত ঠেকিয়ে ঠেকিয়ে সলতের ভাঙাগুলো। ওই আলোর মাথায়েও আলো থাকে জানো? আগুন! লাল। ভাঙলে হলুদ ছাড়ালে কালো অন্ধকার দূর্বোর্ষ্য। বোধি পবনের রাতে, রাত একা ভ্রমণে বেরিয়েছেন। ঘোড়ার ডান কাঁধে ঝোলানো পা। পায়ের দাপগুলি স্পর্শ
আরো একটু অন্তিমে চাইলে, আরো নুড়ি কযেক। হলুদ সাদা ভিজ একটা ভেজা তার সাদার আলো। জিভ লোনতা আধো বাড়িয়ে হাঁপাস্য! তার ঠোঁটের ডাক ছোঁয়া
আড়াআড়ি।
ভেতরে। আরো কিছুটা গীন মুখ নামা নামিয়ে দেখলে আঙুলের পাঁচ। তলতলে নীল সাদা হলুদ কালে! বুনো! দীপ পাতা গন্ধ! সবুজ কুসুম বাটা। হালকা ফুলের কোনো নাভি বেটে বেটে তোমার কোরকে! মুখ উহ্য তুলেছো তুমি কোমর। জিভের মুড়ে আসা উল্টে। তেজ প্রজাপতি গন্ধ! বৃহস্পতি ঋষি। ব্রহ্মা

অহনা সরকার

#ডিসেম্বর