বিভাগ: ২০১৯

রা নগরী

আলোর লেখ কমে আসলে, আস্তে আস্তে দিন শুরু। করুনাময়, পুরোনো পাঠানদের রাজত্বে পাপ ও ডিমের ভার। কাগজে কলমে সেই দিনটা শুক্রবার ছিলো, বহঃ রাতের আগে। পল এক নারী, জুড়ানো চোখের বিচার। দেহ হতে নিঃসঙ্গ। আজন্ম ভার বহন করে আসা কূলধার, ওম্ ও ওমিনি। কাঁচের ধার দিয়ে পাঠকে দেখছি। পদকান্ত। কামিনী পহরার বেশ। বীজ একা ধানে,…

Read more রা নগরী

মেঘল

  একটা পুরোনো গোয়ালতুলির পথ। পাঠশালাও বলা চলে হয়তো। জঙ্গলের পথ দিয়ে। তবে জঙ্গল ঠিক নয়, বড় বড় আগাছা। যে যার নিজের মতো বেড়ে উঠেছে। মাঝে সাদা পথটুকু ফাঁকার। এখানেও ধারে সবুজ বনছুঁই। কখনো মাথা ঝোঁকানো গাছ। হালকা হাত ছোঁয়ালে মনের কথা বলে, হাসি, যদি একটু বেশি দাঁড়াও বা ওর কাছ ঘেঁষে আরো কয়েক তলি,…

Read more মেঘল

সবুজ গেট

এ সময় স্কুলে যেতাম আমি। এক গাড়ি বাক্স সাজিয়ে। সবুজ ফিতে সবুজ স্কাট, সাদা মোজা, কালো নিউকাট। মা চামড়া কিনে অর্ডার দিয়ে বানিয়ে দিয়েছিলো। ওই তো এই পুকুরটার উল্টোদিকেই। কাঁচি কাঁটা মেসিনের মতো একটা যন্ত্র, তাতে পা রেখে পা ডুবিয়ে, বৌমার সেলাই মেসিনের মতোন। পা নামলে সূচ ওঠে, পা পড়লে ফোঁড়! স্কুলে যাবার সময় সারা…

Read more সবুজ গেট

পুরুষ পাখি আর

পুরুষ পাখি আর একটা নদীর মধ্যে পার্থক্য কি ? পুরুষ বাসা বাঁধে আর নদী জলের মতো নিজ ছন্দে জোয়ারের জল, গা ভাসানো বুক, মুখে এসে পড়া ধূলো, পা। পুরুষ পাখিটি বড় হলে তার মা হাওয়ার ভার চাপিয়ে, পুরুষ তখন দেশান্তরী। আবার নতুন দেশ ঘর, মাটি, রাত বহিষ্কারের হুংকার। পুরুষ পাখিটি একটা গাছে এসে বাসা বেঁধেছে।…

Read more পুরুষ পাখি আর

শোনো না! ডাকছি

  শোনো। শোনো শোনো না ডাকছি। শোনো আরো জোরে বললে বা আরো দ্রুণ! কাছের বা আস্তের পর! হাঁটি বরঞ্চ কিছুক্ষণ। ওই মনপাড়ার দেশ গাঁ ভুবন চলা মিটিমিটি। গ্রামটা অদ্ভুত কাদামাটির, মাটির ঘেরা ছাঁও। মনোহারী দোকান আছে একটা আমাদের, নানা রঙের দিলখুশ। চারটে ঘুড়ির পর এই একটা কেটেছে এই এই তুমি ছাদ থেকে চেঁচিয়ে ডাকলে “কই…

Read more শোনো না! ডাকছি

লক্ষ্মীন্দরের স্বাদে

  লক্ষ্মীন্দরের স্বাদে জিভের ফাঁকা স্বাদকে একমুঠো মুড়ি দিলাম। লাল সদ্য মাখা মুড়ি। ন মেসোমশাই সেই সক্কাল থেকে একবাটি মুড়ি নিয়ে বসেছে বারান্দার চাদরে সবুজ দরজার হেলান। ন মাসিমা পেতে রাখা ঝুড়িতে বরবটি, ফালি কুমড়ো সাদা রঙের কি একটা ফল, বটি পেতে বরবটিগুলো ভাগ করছে, মাঝ চেরা। বারান্দায় মেসোমশাইয়ের পাশেই একটু দূরে পা ঝুলিয়ে বসে…

Read more লক্ষ্মীন্দরের স্বাদে

বিদেরাই

    তার দক্ষিণদিকে চিরখাতে বয়ে যাচ্ছে তর্ভা নদী। এ দেশের একমাত্র সুখচর। জল যদিও খুব সামান্য থাকে এখানে, তবু দেখা দেখা সুখগুলো, প্রান্ত শুকনো খটখটে নদী, তার মধ্যে যাবতীয় খড়কুটো জ্বেলে রাত বা কখনো তা প্রহরীরা। এ মাঝেরই পশ্চিম চরে, চালা বেঁধে এই ক দিন কয়েক হলো এসে জুটেছেন, বিদেরাই। তিনি আর তার সঙ্গী…

Read more বিদেরাই

কিছু গল্প

  কিছু গল্প, তাদের কথা হতচ্ছাড়া। কিছু গল্প তাদের কথা পিছনের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকটা থামান না! উফ! গল্পে জানলা আছে। দাঁড়ানো পথ। পিছনে চেয়ে উঁহু হলো না! লাইনটা খুব ভেতো হয়ে গেলো সাদা বাঙালী! কিছু গল্প আছে। হ্যাঁ সে তো আছেই আমি জানি। তারপর পেনটা ছুঁড়ে ফেললাম। ছুঁড়ে। হাত টপকে সিঁড়ি পাথরের স্ল্যাবগুলো পেরিয়ে নৌকার খোলে…

Read more কিছু গল্প

শহকর্মা

  কর্মসূত্রের যোগফলগুলোকে মানলে আমি আপনার মা হই, আর না মানলে পত্নী। বিচার্য আপনার। কোন সুখকে আপনি নেবেন। কোনসুখের দায়ভাগা ভাগ বা ভার্বার্য্য আপনার জন্য জরুরী। আমি রোজ রাতে যেমন জেগে রই আজও থাকবো। অপেক্ষা আপনার জন্য, স্বামী বা পুত্রের। খু্ব ধীরে ধীরে নিজেকে নামিয়ে শহকর্মা এই কথাগুলো বললেন রাত কে। রাত, নগরীমোহনের নতুন যুবরাজ,…

Read more শহকর্মা

কাদা মাখা প্লাটফর্ম

কাদা মাখা প্লাটফর্ম। কাদা পায়ের ছাপ। কাদা জড়ো করে রেখেছে কেউ, রাখছে। কাদার তাল মাটির মধ্যে বুনে, বুনে বুনে সূচের ফোঁড়। হাত এখানে শুধু সূতো, দাঁতের কাছে নিয়ে অল্প কাটা দু ভাগ। ভাগের শেষে গুটুলি পাকিয়ে, কিছুটা চুপ যেন, দেখছে, শুনছে, আঙুল ঠেকিয়ে শব্দের মধ্যে এই চলাচলের। অল্প সরলো কি একটু? নিচে? নড়া কাঁপন! পা…

Read more কাদা মাখা প্লাটফর্ম