কঙ্গে কোমরে

2019-12-01-19-27-55

দেখা সে ভাবে অনুমান, কুড়ানো নয়। দেখা একটা চরিত্র। তার চোখ আছে চোখে জহর আছে, জহরে ঝুঁকি লাগলে জলের ছিটে! ঝাঁপও আছে এমনকি ফুরিয়ে গেলে জলের দাম
কিন্তু জ! সেই বিকেল থেকে একটা একটা করে কমছে। ফোঁপরনামা। ফোপরায় ডোবানো তালের ভাং। অক্সিজেন দুটো হাইড্রোজেন, এমএলও ফ্যাক্টর! ডোবানো সিঁড়িতে পিঁড়ির ওজন। পিঁপড়ে! পরকীয়া ধান সিদ্ধ মনে ধন্বন্তরি। বুকের একলা ফোঁকরে একটা গুটিসুটি বাঘ, নিজের আঁচড়গুলোকে কামড়ে, জমিয়ে জ জ হাজিমনি! বালি, এটা হাত ধূলো
আসমানী তলা এসেছে। পাঁউরুটি বিক্রির শব্দ। হর্ণে ডাকে। মানুষটা বড় ভালো গো, বড্ড নিজেকে কেমনে কেমনে জড়িয়ে বুকের দুটি হাত গুটি একদ্দম মুক্কুরখানা। খুলতে খুলতে নিজের কথা শুনি। নিজের বুকের পাঠ
পাট করে রাখা দরজা। কঙ্গে, কোমরে

   অহনা সরকার
#নভেম্বর

সেঁদা সেঁদা

SmartSelect_20191201-204747_ImageSearchMan

অন্ধ গলি ও তার ধৃতরাষ্ট্র। কেমন সেঁদা সেঁদা গন্ধ! পাচ্ছ! গন্ধের কাছে গিয়ে দাঁড়ালে? ভিজে টোপানো জল। চাদর খদ্দরের। এই প্যান্টের নিচে চাপায় পড়া দাগ কাদার। এই সেলাই কাঁথার দড়ি ভিজে সাইকেলের হর্ণ। এই গলিটার শুরু থেকে ওই ওইই যতদূর পর্যন্ত! দাঁড় করানো সাইকেল ঘোড়ার গাড়ি পানের পিক কাঁচ ওঠানো আইসক্রিম, চুমুর শব্দ! রদ্দি! রেন্ডি! ভাষা ব্যবহারের শব্দে। চৌকাঠ প্রতিটি গলি ধুঁযাতারা। পাঁপড় ভাজছে কেউ! বেশ করে ঘি মেখে আঙুলে চেটে চেটে নুনের প্রত্যেকটা কান। স্বরগুলো বাচ্চার কোনো, এখানেই ওই গাড়ির নিচে, চৌকিদারের হাত।

আরো একটু বেশি হয়ত পা কয়েক বড়জোর, চালনার পর, চলনের পর, বড় রাস্তা শেষ হয়েছে। অন্ধকার দূর্বষ্য। পিছন ফিরে দেখতে নেই! এখানে দাঁড়ালে আর

অহনা সরকার

#ডিসেম্বর

(ছবিটি সংগৃহীত)

যেমন

20191125_232036

পাতাদের ভিড়ে গাছেরা মসৃণ। ওহে ওঠো হে! মনোযোগী হও। মনোদাস। মনের মনকরণে, মম মন রোগ। মনকে বেহাত নিয়েছি। বিদেন্ত
কাঁপা ফুলে কাঁটা গাছের সারি। গাছেরা সার বস্তু ছেড়ে। বয়নাং বিঃ ভ্রান্তি
ভাতারের ঘরে টুকরো কাপড়ও জলবত তরলং

লং ড্রাইভ শেষে।

অহনা সরকার

#ডিসেম্বর

আপেল একটা

20191130_134444

অধর। ছায়া পড়েছে বিষণ্ণ। আড়ষ্ট মুখভাগে!

আপেলটা কামড়ে কি প্রচন্ড মন খারাপ করলো হঠাৎ! বেশ সবুজ সবুজ কচি রঙের কচকচে আপেল। ছোটোবেলায় আমাদের বাড়িতে যখন শালওয়ালা আসতো, এমন সময়ই এই শীত পড়ার মুখে মুখে। অনেক দর দস্তির পর, কেনাকাটি সামলে, তারা একটা ছোট্টো পুঁটুলি বের করতো, তার থেকে গুটি গুটি দুটো আপেল, একমুঠো কিসমিস আর দুটো চেরি। মনে আছে, আমি হস্টেল থেকে ফিরে প্রতিবার শীতের ছুটিতে খেতাম। আপেল হয়ত কখনো নষ্ট হয়ে যেত, শুকিয়ে! কিন্তু চেরি আর কিসমিসের স্বাদ! উফ! আলাদা পুরো।
কখনও নাকের কাছে নিয়ে টানলে, ঝরণার শব্দ, চিনারের পাহাড়ী ধনপদ, ঝিলম! তাদের দেখিনি কখনো, কিন্তু নাম তো শোনা ছিলোই!
এই আপেলটাও সবুজ বেশ টকটকে লালের কয়েক ছিটে! হাতে নিয়ে শুঁকলে কাঁচা মেঘের গন্ধ।
তুই কোথা থেকে এসেছিস রে! বাড়িকে মনে পড়ে? যেখানে ছিলি!
আপেলটা কেমন যেন নীরব হাসলো, নিষ্ঠুর! ও র ভেতরে চারটে দানা ঠকঠক্! তারাও যেন কিছুটা!

কাশ্মীর!
কালকেই একটা ডকুমেন্টারি দেখতে দেখতে প্রথম জানলাম, কাশ্যপ আর মীর মিলিয়ে

অহনা সরকার

#নভেম্বর

আলোর

 

20191129_180217

আলো। কাঁচের জানলার ওপারে, বাহির। আলো আসছে আদানরতা। র এক মুখ বিরব। চোখের সামনে কয়েক কলমচা ধ্বনি। টুকি মেরে কলমটাকে দেখছে। নিপ, তার জ তার গা বেয়ে এই যে গড়িয়ে গড়িয়ে জিভে নেই। আলো নীল ক্ষেত্র। নীল! তার জলের ভাগ। ভাগে জল রাখলে? আরো ফোঁটা কয়েক আরো! এই তিল তার মধ্যে ফেললাম। রায়এমুখ। হামামচিনি। মিঠ কে মিঠার সঙ্গে দোস্তি করালে? সন্ধান
বড় বড় উপযোগী রায়জ বৃহৎ। তুলোর গাছটা কনে। মৌরি ভাঙা। দু মুঠো চাঁদের পর গলার কাছে
হসই হস্ ওইই শুনছো? হাত মুখের কাছে জড়ো করে গলার ভেতর নিয়ে ডেকেছি। সে নড়ে শোয়। পাশ হালকা। নীল রঙের জামা পরেছে একটা। গাঢ় গেরুয়া হলুদকর্মী। বুকের কাছে তোমার রাখা
তুমি হাত গুটিয়ে শোও, চিরকালই যেমন। চাঁদ! না! এ ঘরের সমস্ত জানলা গুলো তালকাণা। পর্দা সরিয়ে দিলাম অল্প। ছায়া না! কালো গুটি একটা। এসে চুপচাপ পা মুড়ে কানদুটিকে মুখের পাশে নিয়েছে। দু হাত ঢাকা। দুলে দুলে গান পড়ছে
দুল দুল দোলানি
দুলকি চালে দোলন চলে
দুল দুল দুল দোবরাজ।
ঠোঁটে আঙুল ঠেকিয়েছো তুমি। ঘুমের

অহনা সরকার

#নভেম্বর

রা নগরী

আলোর লেখ কমে আসলে, আস্তে আস্তে দিন শুরু। করুনাময়, পুরোনো পাঠানদের রাজত্বে পাপ ও ডিমের ভার। কাগজে কলমে সেই দিনটা শুক্রবার ছিলো, বহঃ রাতের আগে। পল এক নারী, জুড়ানো চোখের বিচার। দেহ হতে নিঃসঙ্গ। আজন্ম ভার বহন করে আসা কূলধার, ওম্ ও ওমিনি। কাঁচের ধার দিয়ে পাঠকে দেখছি। পদকান্ত। কামিনী পহরার বেশ। বীজ একা ধানে, এক সুকূল। দুই পাড় জমিসিদ্ধ। রা নগরীর বেশে

অহনা সরকার

#নভেম্বর

মেঘল

 

ছায়া কেএকটা পুরোনো গোয়ালতুলির পথ। পাঠশালাও বলা চলে হয়তো। জঙ্গলের পথ দিয়ে। তবে জঙ্গল ঠিক নয়, বড় বড় আগাছা। যে যার নিজের মতো বেড়ে উঠেছে। মাঝে সাদা পথটুকু ফাঁকার। এখানেও ধারে সবুজ বনছুঁই। কখনো মাথা ঝোঁকানো গাছ। হালকা হাত ছোঁয়ালে মনের কথা বলে, হাসি, যদি একটু বেশি দাঁড়াও বা ওর কাছ ঘেঁষে আরো কয়েক তলি, তা হলে একেবারে রান্নাঘরের হাত। কি রান্না হয়েছে, রান্না করবে, “দাওয়ায় পা তুলে বসো না”! একদম গুছিয়ে গল্প। পরিপাটি হেঁসেল সামলাতে সামলাতে। নুনের বাটি বা হলুদ কৌটো

স্কুল বাড়িটা ন্যাঁড়াছেঁড়া। কেমন ইঁটের ফাঁক দিয়ে মাথা গলিয়ে যেন বাইরে দেখছে। সারা গাছপালা তার সারা গায়ে, আবার নানা রঙের ফুলও আছে রঙের গাছ। সিঁড়ি দু কলি। ফাটল ভেঙেছে আবার ফাটল উঠে! এখানে বেশ পা ছড়িয়ে বসলে, মেঝেতে! নানা ধরনের পিঁপড়ের গর্ত। ছোটো কোনোটা বড় মাঝারিও আছে। তুলোর ঝোপ। তুলো বুনে বুনে কেউ যেন নিজেদের ঘর সংসার। একটা বিছে বেরিয়ে আসছে। কালো রঙের বা গাঢ় কালচেতে আরো অনেকগুলি রঙ! ও র কোনো একটা আঙুল বা পা ভাঙা! নিজেকে যেন সয়ে নিয়ে
আচ্ছা, বিছেরা কি খায়? আরো বয়স বাড়লে? যখন হাঁটা বা ওই যে একটা পোকা ধরলো! কালচে ডানার মৌমাছি! এখন ওকে ছাড়িয়ে খুলে! দৃশ্যটা বড্ড ওরমম! কেমন যেন! উঠে আসি ওখান থেকে। ছাদে যাওয়া যায়? এ বাড়ির ছাদ!
এতক্ষণে মাথা তুলে দেখি! আঁচ কই পুরোটাই তো খোলা! বিশাল বিকল হা একটা। নীল টুপিয়ে রাখা। সাদার গায়ে কালো, মেঘল

অহনা সরকার

#নভেম্বর

সবুজ গেট

2019-11-25-21-42-54

এ সময় স্কুলে যেতাম আমি। এক গাড়ি বাক্স সাজিয়ে। সবুজ ফিতে সবুজ স্কাট, সাদা মোজা, কালো নিউকাট। মা চামড়া কিনে অর্ডার দিয়ে বানিয়ে দিয়েছিলো। ওই তো এই পুকুরটার উল্টোদিকেই। কাঁচি কাঁটা মেসিনের মতো একটা যন্ত্র, তাতে পা রেখে পা ডুবিয়ে, বৌমার সেলাই মেসিনের মতোন। পা নামলে সূচ ওঠে, পা পড়লে ফোঁড়!
স্কুলে যাবার সময় সারা বাস সবাই আমার জামা টেনে কলারে লাগানো ব্যাচটা পড়তো। অদ্ভুত আশ্চর্য হতো তারা! নিজেদের মধ্যে নাড়াচাড়া মুখ কথাবার্তা। স্কুল ঘড়ি, সবুজ রঙের গেট, রাস্তা পার, ট্রাম ডিপোর শব্দ! তখনও জানতাম না জীবনানন্দ ট্রামে চাপা পরে মারা গেছিলেন! আমি ট্রামের লাইনে ঘন্টিটা দেখতাম। একটা দড়ির টান, ঠঙ শব্দের বড় একটা টোকা একটা ছোটো গোলের গায়ে গিয়ে লাগলো! দাঁড়ানো নিথর সব! সব কিছু সমস্ত শব্দ! মাথায় বসা পাখিগুলো পায়রা কাক শব্দের চিড়িক্ আলো হাওয়া দড়ির নড়ে ওঠা, ট্রামটা চলতে শুরু করেছে আবার

অহনা সরকার

#নভেম্বর

পুরুষ পাখি আর

kalapara-forest_4

পুরুষ পাখি আর একটা নদীর মধ্যে পার্থক্য কি ? পুরুষ বাসা বাঁধে আর নদী জলের মতো নিজ ছন্দে জোয়ারের জল, গা ভাসানো বুক, মুখে এসে পড়া ধূলো, পা।
পুরুষ পাখিটি বড় হলে তার মা হাওয়ার ভার চাপিয়ে, পুরুষ তখন দেশান্তরী। আবার নতুন দেশ ঘর, মাটি, রাত বহিষ্কারের হুংকার।
পুরুষ পাখিটি একটা গাছে এসে বাসা বেঁধেছে। কাগজি ফুলের গাছ। গন্ধে লোটানো দুহাতের মুঠো, বুক। নিচে যে ফুল কুড়াচ্ছে কোমরে, সে পাখিটিকে তাড়া দেয়,
এই! যা যা
বাঁধের জল ভাসানে ডোবানো মুখ। খাঁচা তার স্তনের আখ্যান। আরএকটু বড় হলে আরোট্টু। ধূলো ভাব
পুরুষ পাখি,

ঝাঁঝের জলে জল কই! তার যত যত সঙ্গী ছিলো বেহারা, বেঘর। পুরুষ নদী, বেরোজগেরে। পাটাতনে পা ডুবিয়ে সে সারাদিন দিন দেখে।
দেখে দিন আসছে তারই জলে, হাত মুখ ধুয়ে, সাঁতার কেটে ডোবানো পা। পায়ের লতিতে গোড়ালির কাছে পচা খড় লেগে আছে, একটুকরো। সংজ্ঞা কচুরিপানার!
জলে রাত বাড়ে, জল দীর্ঘানি রাত। বিরজা তার ঘরের দাওয়ায় পা ছড়িয়ে বসেছে। সামনে রাখা পানের বাটা। জাঁতিতে সুপারি ভাগ করছে। মাঝে মাঝে আধ মাঝে আধ কখনো দু দুটুকরো আবার

দেবতা পাঠে বসেছেন, জল পাঠে, ওই নদীর তীরেই। গা রহিত অঙ্গখানি খোলা
মৃদু নামিয়ে রাখলে পূর্ণাঙ্গ।

অহনা সরকার

#নভেম্বর

(ছবি সংগৃহীত)

শোনো না! ডাকছি

 

Sunset_001 (168)

শোনো। শোনো শোনো না ডাকছি। শোনো
আরো জোরে বললে বা আরো দ্রুণ! কাছের বা আস্তের পর! হাঁটি বরঞ্চ কিছুক্ষণ। ওই মনপাড়ার দেশ গাঁ ভুবন চলা মিটিমিটি। গ্রামটা অদ্ভুত কাদামাটির, মাটির ঘেরা ছাঁও। মনোহারী দোকান আছে একটা আমাদের, নানা রঙের দিলখুশ। চারটে ঘুড়ির পর এই একটা কেটেছে এই এই তুমি ছাদ থেকে চেঁচিয়ে ডাকলে
“কই গো! চা মুড়ি হলো”! বাকি সময় পয়লার। পয়লার ঘর পফালি মুখ আর লাল রঙের বোতাম জমিসুদ্ধ, আমাদের ঘরের সামনে। নিচু হয়ে বসে জল বাছছি আমরা। জল বেছে বেছে আলাদা করা জল। কুমড়োর পাতা, ধনে পাতা আর একটা সবুজ শাক কি রকমের যেন! ডালগুলো বেছে বেছে হাত ছাড়িয়ে আর একটা পাত্রে রাখা। ঝুড়ির জল, মাটির গা ভিজে টুপিয়ে দাওয়ার
সিঁড়িতে পা দুলিয়ে একবাটি মুড়ি, অংক কষছে আঙুলে, শ্লেট পেন্সিল, মাঝে মাঝে তার নখ কাটার শব্দ। দূরে অনেক দূর কোথাও অনেকটা, এই ঘর জমিন দাওয়া উঠান পার হয়ে বেড়া ছাড়িয়ে কেউ দৌড়াতে দৌড়াতে আসছে। তার পায়ের ঘাম। শব্দমতা
বুকে হাত ঠেকিয়ে বেড়া ধরে দাঁড়ানো সে। যেন! বলবো বলবো দাঁড়াও জল একটু আগে! হাত মুঠো করে দেখানো চুমুক
মোতরমা, তোমার আর আমার মিল

অহনা সরকার

#নভেম্বর