পাহাড় দেখা

DSC_5813-01

লম্বা লম্বা পাইন গাছের ভেতর থেকে যে শহরটা বেঁচে ফিরে এলো, তার নাম দার্জিলিং! বেঁচে হয়তো ফেরার কথা নয়, তবু যাই হোক ভেন্টিলেশন বা বরফ যা হোক তাকে তখনকার মতোন বাঁচিয়ে দিয়েছিলো। এখন তো মনে হয় না বেঁচে আছে কি! চারিদিকে এত এত ভিড় দেখি আর এত এত কোথায় যাচ্ছেন গরমের ছুটিতে বললেই, সাধারণ একদম হাত ধরা ছোঁয়ার মধ্যে দার্জিলিং উত্তর মাস্ট। আমার দাদাকেই দেখেছি বছরে কমপক্ষে দশবার দার্জিলিং যেতো! তার একটা কারণ অবশ্য আগে ছিলো, শিলিগুড়িতে গার্লফ্রেন্ড। কিন্তু বৌদি নিদেনপক্ষে বাড়ির কাছে হওয়ায় ওই দশবার যাওয়াটা পরে একটু হলেও! তবে এখনো রাত বিরেতে হঠাৎ মনে হলো বেড়াতে যাবো, অবশ্যই বৌদির ছুটি থাকলে, আমার দুই ভাইঝি দাদা বৌদি মিলে কোথায় চলেছে! না দার্জিলিং! আর দাদার মুখেই শোনা, ওখানে কোথাও নাকি কোন হোটেল, অধিক ব্যয়ের হোটেল নয়, সাধারণ দিনমান, সেখানে চরম সুস্বাদু ডিম সেদ্ধ পাওয়া যায়।

দূর্ভাগ্যবশত বশত আমি কখনো দার্জিলিং যায়নি। যাবার ইচ্ছেও বোধহয় তেমন এখন অন্তত খুব একটা নেই! অতি ভিড় আর অতি নোংরা! এমনিতে পাহাড় খুব একটা ভালোও লাগে না! কেমন যেন একটা মাথা উঁচু বড্ড বড্ডই ইয়ে! যাক গে তবে দার্জিলিং এর ওই ঘন পাইন বন, তার মধ্যে দিয়ে নীল কুয়াশা সিনেমায় দেখেছি, এমন সত্যি দেখা যায় কিনা তাও জানিনা। পাহাড় লাভালদের জিজ্ঞেস করা বৃথা, যা আপনি ভালবাসেন তার অগুণগান! চান্সই নেই
তবে আমি যখন গ্যাংটক গেছিলাম, এই একটু আগেই একটা বই পড়তে পড়তে অদ্ভুত ভাবে আবার মনে পড়লো। তো আমরা যে হোটেলে উঠেছিলাম, বলেছিলো ভোরবেলা মেঘ না থাকলে হোটেলের ছাদ থেকে নাকি অপূর্ব কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। তো সেইমতো এক বেশ পরিষ্কার সকাল সেদিন, সারা হোটেলে যত লোক ছিলো সব্বাই তখন ছাদে। ধুর ছাই! কোথায় কি! কেউ সামনে নেই! আসেই না। বিরক্ত হয়ে ছাদ থেকে নেমে আমি হোটেলের সামনে বেরিয়ে এসেছি। হোটেলের সামনের যে রাস্তাটা, হোটেলটা শেষ হয়েছে যেখানে তার পাশ ঘুরে এগোলেই সামনেটা ফাঁকা পুরো! ফাঁকা আর রাস্তার মাঝে খাদ। বেশ পা ঝুলিয়ে বসার জন্য দারুণ। ওখানে এদিক সেদিক ঘুরবো বলে নেমে গেছি। সামনে দেখি মুনু দাঁড়িয়ে, আমাদের পাড়ারই, সো দুজনে ঠিক করলাম হাঁটতে যাবো। হোটেলের বাঁকটা জাস্ট ঘুরেছি সবে ডাঁয়ে তাকিয়ে দেখি! সত্যি! বহুক্ষণ জানি না বেশ কিছুটা তো অবশ্যই কি মানে কি কিই! সেটা! সামনে স্পষ্ট চকচকে দাঁড়িয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা! ওপরে চূড়ায় রোদের হলদেটে হালকা আভা! ছাদে যারা দাঁড়িয়েছিলো তাদের ডাক পাঠাতেই! দু চারজন দেখতে পেয়েছিলো! বাকিরা আসার আগেই পাহাড় আবার আড়ালে তখন

কিন্তু প্রথম কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা! পাহাড় আমার ভালো লাগুক ছাই নাই লাগুক! ওটা একদম আলাদা একদম সমস্ত কিছুর চেয়ে

অহনা সরকার

#২০২০এপ্রিল

#bangla, #banglalekha, #banglablog, #ahanasarkar, #uchcharan,

ঘরঘুট্টি

20200321_214149-01

সেই ডাইভারজেন্ট ছবিটা দেখেছিলাম, তেমন মনে হচ্ছে! যেখানে বসে আছি সেখান থেকে জাস্ট রাস্তার টিউবের আলোটা শুধু দেখা যাচ্ছে। অদ্ভুত ভাবে ঠান্ডা শীতল যেন! একটাও পোকা নেই চারপাশে। উল্টোদিকের বাড়িগুলোর মধ্যে জাস্ট একটা বাড়ির দোতলায় আলো জ্বলছে, তাও বোধহয় সিঁড়ির হলদে ব্লাব! কাঁচে সেই হলুদ ছায়াটা পড়েছে!
মাঝে মাঝে খুব গম্ভীর থেকে মেঘ ডাকছে! সেটা ছাড়া ঘরের মধ্যে ফ্রিজ আর টিভি চলার শব্দ! খবরের চ্যানেল।
প্রেসিডেন্সি জেলে পাগলা ঘন্টি বাজছে! শোনা যাচ্ছে
কেমন যানি মনে হচ্ছে আস্তে আস্তে বাকিবাদ শব্দও প্রায় থেমে আসবে। এই কুকুর ডাকার শব্দ এখনই নেই প্রায় একদম, একটুও! অন্যদিন, কাল পর্যন্তও ডিজের আওয়াজে মনে হতো, উফ্ সারাদিন কেন চলে। এখন মনে হচ্ছে কেন চলছে না!

আর একটাই মাত্র একধরনেরই বাইকের হর্ণ, সম্ভবত টহল দিচ্ছে!
আচ্ছা কেউ যেন আবার এসব পড়ে আতঙ্কগ্রস্ত হবেন না, এটা আমার চারপাশ বাকিদের এমন নাও হতে পারে

অহনা সরকার

#মার্চ২০২০

#bangla, #banglalekha, #ahanasarkar, #uchcharan,

ঘরবাড়ি

SmartSelect_20200212-132030_Gallery-01

ঘুম ভেঙে কি প্রচন্ড মন খারাপ হলো। স্বপ্ন দেখছিলাম, রাজারহাটে আমাদের বাড়ির চারপাশে সব বদলে গেছে সবকিছু! কিচ্ছু চিনতে পারছি না! এখন তো সত্যিই অনেক বদলে গেছে আমি জন্মে বড় হবার পর যেমন দেখেছিলাম তার অনেকটাই নেই। কিন্তু স্বপ্নে দেখলাম কিচ্ছু নেই! আমার ছোটোবেলার স্কুল যেখানে পড়তাম, পাশে একটা পুকুর ছিলো, জানলা দিয়ে দেখলে দেখা যেত শাপলা ফুটে আছে গোলাপী বেগুনী রঙের শাপলা। জিজ্ঞেস করতে কেউ বলতেই পারলো না! বললো, “না তো এ নামে কিছু নেই তো! ওখানে তো বড় স্কুল হয়েছে বিশাল বড় বিদেশি স্কুল”! আমার আর এক স্কুল সেও দেখলাম নাম পাল্টে ছোট্টো ছোট্টো কুঁড়ে হয়ে গেছে তার জায়গায় অন্য কিছু একদম ঝাঁ চকচকে!
একমাত্র রথতলার গলিটায় ঢুকে দেখলাম কিছুটা তাও আছে। চিনতে পারছি! একজন আমার সাথে যাচ্ছিলেন চেনাতে চেনাতে এটা ওটা ওটা ওই তাকে থামিয়ে তার বলার মাঝখানেই বলে উঠলাম, এটা রথতলা রথ হতো এখানে। জায়গাটা আছে, দেখলাম বিরাট শিবঠাকুরের পাথরের মুখ বসেছে। রথতলার উল্টোদিকে এটা ঠানদিদের বাড়ি তার পাশের টা ঢাকি মামাদের বাড়ি তার পাশে অলোকমামার আসব সেটার উল্টোদিকে পুকুর! আশ্চর্য লাগলেও এই জায়গাগুলো একই রয়েছে, ঠানদিদের জবাফুলের গাছ ঘেরা শ্যাওলা পড়া উঠান, বাড়িটা ভেঙে চুরে গেছে যদিও। তার পাশে ঢাকিমামাদের বাড়ি ঢুকতে লাল চাতাল পাশে একটা বেঁটেখাটো বেলগাছ কাঁটা ভর্তি। এই বাড়িটাও ভাঙাচোরা পোড়া বাড়ির মতোন। কিন্তু রয়েছে এখনো
অলোকমামার আসর আর উল্টোদিকের পুকুরের মাঝখানে যে পঞ্চায়েতের লাল সুরকি ফেলা রাস্তাটা সেটাও একই রয়েছে, অলোকমামাদের বাড়ির বাঁক নেবার আগে যে গলির মুখটা ওখানে এসে ঘুম ভেঙে গেলো!
আর সত্যিই! কি প্রচন্ড মন খারাপ করলো। এমন অদ্ভুত ভাবে পাল্টে যায় সব কিছু! পাল্টে যাবে!

অহনা সরকার

#২০২০মার্চ

#হোম_লকডাউন

#bangla, #banglalekha, #ahanasarkar, #uchcharan,

যেমন

20200305_174613

নই আর নেই এর মধ্যে পার্থক্য আছে প্রচুর। নই একটা থাকা শব্দ। আছি, নই এমন। আর নেই এটা চূড়ান্ত না থাকা শব্দ। ছিলাম এখন নেই! অবশ্য গাছেদের দেখলে কিন্তু সেটা আলাদা মনে হয় বা হয়ে যায়। যেমন ধরো শীতকালে যে সব গাছের পাতা ঝরে যায়, তখন তারা বলতে পারে “কাল ছিলো তো এখন নেই”! কিন্তু যদি নই বলে! ” কাল আমি আম গাছ ছিলাম, আজ নই!” উঁহু! কেমন যেন শোনাবে! তারমানে এখানেও এটাই হলো শব্দ সেই শব্দই যে যে ভাবে উচ্চারণ করবে বা নেবে। “কাল আমি তোর মানুষ ছিলাম, আজ নই বা নেই”! হুঁ! তাও যেন কেমন থেকে যাচ্ছে! আমার মনে হলো! নই তে একটু হলেও বোধহয় থাকা থাকে থাকছে সামান্য হলেও, নেই তে বিন্দুমাত্র না! ফাঁকা শূন্য

অহনা সরকার

#মার্চ২০২০

#bangla, #banglalekha, #ahanasarkar, #uchcharan,

আশেপাশেই কোথাও

20200303_205239-01

ধর, আমি এই বাড়িটাতে একলা রয়েছি, আর আমার জ্বর হয়েছে। আমি মশারির ভেতর শুয়ে ফ্যানটাকে দেখছি। ফ্যানটাও আমাকে দেখছে, ওরও মুখ চুপ আমারও। ঘরের আলোটা নিভিয়ে দিলে এখন একটা সদস্য বাড়বে, ফ্যানের ছায়া। ফ্যান তখন আর ফ্যানের ছায়া দুজনের হাত সমান দূরত্ব নয় অনেক দূর ফ্যানটা তো আমার মাথার ওপর আর ছায়াটা ওই দূরে দরজার ওপর। আলোটা নিভিয়ে আমি বেশ খানিকক্ষণ চেয়ে থাকলাম চেয়েই আছি, যদি ওরা কোনো কথা বলে বা কোনো নড়নচড়ন, কোনো শব্দও সামান্য যা হোক। না! কিছুই হলো না বা আমিই বুঝতে পারলাম না। উঠে আবার আলো জ্বালিয়ে দিয়েছি এখন। ঘরে এখন এই সদস্য আমি মশারি মশারির ভেতর নিচে আমি তার নিচে খাট খাটের ভেতর শীতের সব জামাকাপড় মেঝে দোতলার লোকজন দেওয়াল মাথার ওপর ফ্যান দূরের সিএলএফ আর একটা টিভি শব্দহীন চলছে কিন্তু আলো নেই, আর একটা ঘড়ি আটটা উনপঞ্চাশ বাজে। বাইরে কারা শিষ দিতে দিতে আসছে ফিরছে বোধহয়। খুব ঘন বা হালকা খুব হালকা বেবি জনসন পাউডারের গন্ধ! আশেপাশেই কোথাও

অহনা সরকার

#মার্চ২০২০

#bangla, #banglalekha, #ahanasarkar, #uchcharan,

কতকাল

DSC_5818-01

সন্ধ্যের ধারনার পাশে আমি প্রতিদিন দাঁড়াই নিজমনে। অল্প একটু হাত বাড়াই ক্ষণিক সামান্য যদি ছোঁয়া যায়! যদি! অল্প অল্প থেকে অনেক দূরে তার এখন বর্তমান। রোদের জলে পা ডুবিয়ে বসেছে। পাশের মানুষটিকে, দেখছে খেলা কেমন পা হয়ে শরীর পায়ের পাতা আঙুল রোদ।
অনেকদিন আগের কিছু শোনা কথার বিবরণ মনে পড়ে। অনেক দিন আগের। তখন বিকেল ছিলো গোধূলি একটা লাল বল বারান্দার ব্যালকনি থেকে টপকাতে টপকাতে শালিখের ছানাগুলো আজ আর মেলা শিখতে আসেনি তাদের ডানা হয়েছে তারা ওই ওইই অবার্তে অ পার্থক্য। মাঝে মাঝে মনে হয় তোমাকে চিনি মাঝে মাঝে
বিপুল কোনো শূন্য একটা তুলনা নিজেকে খুঁজছে পাশে রাখবে বলে! কার পাশে! সেটাই জানবো বলে
একা একা এমন ধীর অ ধীর নামছে চারপাশে। তার পোষাকখানা মহীরুহ। বুক পকেটে কলমের ভার। মুখখানা নীল। খুলে লিখলে লজ্জ্যা দেখা যায়। তার আদর নিঃর্শাত লজ্জ্যা

অহনা সরকার

#মার্চ২০২০

#bangla, #banglalekha, #ahanasarkar, #uchcharan,

ভেড়ার গল্প

SmartSelect_20200228-190722_Gallery

একজন লোক তিনখানা ভেড়া কিনেছে কুড়ি টাকা কিলো দরে। এবার ভেড়ার সে রুরমা বানাবে সুরাইয়া আর কিছু কিমা। বাজারে গেলো মশলা পাতি কিনতে, কিনে ফেরার সময় দেখে কিছু লোক জটলা করছে ভিড় জমে আছে সবার মাথায় হাত! এবার সে পায়ে সে ভিড়টার সামনে গেলো, হাত টাত দিয়ে ভিড় একটু পাতলা করে ভেতরে ঢুকে দেখে কিছুই না! মাটিতে কিসের যেন একটা ছায়া পড়ে আছে! আর লোকজন তাই নিয়েই চিল্লামিল্লি মাথায় হাত। সে এমনি বেশ সাহসীও তেমন নয় ভীতুও নয়, তো আস্তে আস্তে ছায়াটার পাশে গিয়ে বুঝতে পারলো, ছায়া নয় মাটিতে চিড় ধরেছে জল বেরোচ্ছে, বালির মতোন হলদেটে মাটি আর এত্ত চড়া রোদে তাকে ছায়া মনে হচ্ছে। তখন সে করলো কি বাজারের ব্যাগটা যাতে মশলাপাতি ছিলো, সে সব নামিয়ে হাত খালি করে মাটিতে বসেই কান পাতলো। ভেতরে আস্তে আস্তে যেন কেমন শব্দ হচ্ছে হুঁস্ হুঁস্ শব্দ। সে তেমনই শুনলো আর কি! অন্য রকমও হতে পারে। তারপর সে ওখান থেকে উঠে পথে বাজারের ব্যাগট্যাগ গুটিয়ে বাড়ি চলে এলো। আসার পথে ওখানে যত ভিড় ছিলো যারা এতক্ষণ ভিড় করে ছিলো, তারা সব “কি হলো কি শুনছিলে, ওটা কি!” এমন হাজারো প্রশ্ন। লোকটা কিন্তু কোনোটার উত্তর দিলো না। সোজা বাড়ি এসে দরজা বন্ধ করে দিলো। সে বাড়িতে একাই থাকতো, সামনে একটা ধানবন কিছু জরুরী গাছের চারা আর অনেক অনেক উঠান। তো এমন হয়েছে তিনচারদিন কেটে গেছে, বাড়িটা এমনিতেই গ্রামের একদিকে ছিলো, লোকজন তেমন খোঁজও করতো না, আর সে নিজেও তেমন মিশুকে কিছু নয়। তবে যার কাছ থেকে ভেড়া কিনেছিলো সেদিন, সে কিছু একটা ভেবে বা কারণে এর সাথে দেখা করতে এসেছে। দরজা তো বন্ধ, ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ নেই। তো সে করলো কি বেশ অনেকক্ষণ ডেকে সাড়াটাড়া না পেয়ে গাঁয়ের লোক ডাকতে গেলো, হতেও পারে অসুখ বিসুখ যদি কিছু হয়ে থাকে। তো লোকজন বেশ অনেক লোকজন সব লাঠি দরজা ভাঙার জিনিসপত্র নিয়ে একসময় তারা দরজাটা ভেঙে ফেললো। ঢুকে দেখে ভেতরে কেউ নেই! না তা কি করে হবে! এমন ভেবে তারা খুঁজতে খুঁজতে দেখে মানুষটা ঘুমিয়ে পড়েছে ভেড়াগুলোও। একটা ভেড়া বুকে জড়ানো একটা পায়ের কাছে একটা মাথায়

আমরা নদীকে বাঁচাতে পারেনি তাই জল ছয়ে যায় জল মাড়িয়ে মাড়িয়েই আমরা হাঁটি, তাই শাপ লাগে না পায়ে পাও সয়ে যায়। এ অভ্যাসেই আমরা মানুষ মাড়াই মাড়িয়ে চলি চলে যাই

অহনা সরকার

#ফেব্রুয়ারী২০২০

#bangla, #banglalekha, #ahanasarkar, #uchcharan,

পেইন্টিং

SmartSelect_20200225-174709_Gallery-01

একা একা একটা মেয়ে স্টেশনে বসে আছে। প্রতিদিন বসে থাকে রোজ দেখি ওকে ট্রেন ধরার সময় আবার ট্রেন থেকে নামার সময় ফিরে। মেয়েটা বোধহয় আর্টিস্ট ছবি আঁকে। ওর ডান হাতে বুকের কাছে একটা বড় কাঠের বোর্ড থাকে আর হাতে ধরা পেন্সিল। বেশ লাগে কিন্তু দেখতে। এটা কি গাছ! কে জানে! হলুদ হলুদ কেমন সব ঝুমকো লতায় জড়ানো জড়ানো তার নিচে একটা মেয়ে বসে ছবি আঁকছে। কি ছবি দেখা যাচ্ছে না এতদূর থেকে দেখতে পাচ্ছি না বোঝাও যাচ্ছে না, তবে এই পুরো ছবিটা, পুরোনো বেশ মোটামুটি ফাঁকা একটা স্টেশন একটা বা দুটো ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে আপ ডাউনের কখনো বা খালি আর একটা মেয়ে একটা ঝুমকো লতার গাছের নিচে বসে ছবি আঁকছে! দারুণ রোমান্টিক দৃশ্য কিন্তু সিনেমার মতো। কিন্তু কে জানে আমার ওকে দেখলেই মন খারাপ করে রোজ! বেশ কোঁকড়ানো চুলের মুখ এখন দাঁতে পেন্সিলটা ধরে আছে কামড়ানো কিছু ভাবছে বোধহয়! আমি কি ওর পাশে গিয়ে দাঁড়াবো! চুপি চুপি আস্তে আস্তে দেখে আসবো ও কি আঁকছে!

অহনা সরকার

#ফেব্রুয়ারী২০২০

#bangla, #banglalekha, #ahanasarkar, #uchcharan,

স্বপ্নের

SmartSelect_20200219-225622_Gallery-01

স্বপ্নে আজ দেখলাম ঋষিকে দেখলাম। ঋষি কে বলোতো, তখন কোন ক্লাসে পড়ি সিক্স বা সেভেন ও করতো কি রোজ ফেরার সময় একটা গোলাপী নীল সাইকেল, ওর দিদির সাইকেল ছিলো ওটা সম্ভবত। তো ওটা নিয়েই দাঁড়িয়ে থাকতো ওই রিক্সা স্ট্যান্ডটার পাশে। কথা তো কিছু বলতো না শুধু দাঁড়িয়েই থাকতো সাইকেলটা নিয়ে। রোজ দেখতে দেখতে না একসময় এমন হয়েছিলো যে ও যে ওখানে দাঁড়িয়ে থাকে সেটাই কেমন যেন ভুলে গেছিলাম। আরে সত্যি! তো প্রায় বছর তিনেক কি চার পর একদিন সেদিন সম্ভবত ভ্যালেন্টাইন্স ডে ছিলো হ্যাঁ তাই আমার জন্মদিন বাবিন একটা বেশ সুন্দর বেশ গিফ্ট প্যাক দিয়েছে বাবার অফিসে গেছিলাম সেদিন আমি তো বাস থেকে নেমে বেশ হেলতে দুলতে বাড়ি ফিরছি, একটু বেশ উত্তেজনা আছে কি আছে প্যাকেটের ভেতর কতক্ষণে খুলে দেখবো সেটা! তো হঠাৎ সামনে একগোছা লাল একদম গাঢ় কালচে ভেলভেটের মতো গোলাপ গোলাপের তোড়া আর কেউ যেন বললো “তোমার”! গোলাপ ফুল এমনিতেই হঠাৎ করে ধরতে আমার বেশ ভয় করে কে জানে বাবা না দেখে হাত দেবো আর কাঁটা! তো ” তোমার” শুনে মুখ ঘুরিয়ে দেখি বেশ রোগা লম্বা চোখে হালকা পাওয়ারের চশমা হালকা নীল গোলাপী সাইকেলে একটা ছেলে! আর আমি এত হকচকিয়ে গেছি যে কি বলবো আর কি বলবো না! তো বেশ খানিকক্ষণ কতক্ষণ যদিও মনে নেই কুড়ি পঁচিশ সেকেন্ড হবে হয়তো ওর মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম দেন পাশ কাটিয়ে সোজ্জা বাড়ি
বাকিটা রাস্তাটা মনে নেই তবে বাড়ি পৌঁছে বেশ খারাপ লাগছিলো ইশ! ওতগুলো গোলাপ আর দারুণ সুন্দর ছিলো গোলাপগুলো সো নিলেই হতো তায় আবার আজ ভ্যালেন্টাইন্স ডে! তা যাক গে পরে মানে আরো দিন চারেক পর একদিন আমি লাইব্রেরিতে যাচ্ছি সবে বাজারটা পেরিয়েছি সেই নীল গোলাপি সাইকেল আবার সামনে এসে দাঁড়ালো! সাইকেল থেকে নেমে এর আগের দিন যে ফুল দিয়েছিলো সেই বললো, “সরি, তোমার খারাপ লাগবে বুঝতে পারেনি”! তুমি বললে হয়তো ভাববে আমি ইয়ার্কি করছি বা মিথ্যে কথা বলছি বাট আমার তখন ও কে দারুণ একটা কিস করতে ইচ্ছে করছিলো! সত্যি! অদ্ভুত লাগছিলো ওকে সবকিছুর থেকে আলাদা। গালে হালকা মানে সবে সবে উঠছে এমন দাড়ি বেশ বিষণ্ণ মন খারাপ করা চোখ মুখ! কিস তো করা হলো না! বাট বললাম, ” ঠিক আছে তোমাকে সরি হতে হবে না আমিই সরি, রিয়েলি ভীষণ সরি। গোলাপগুলো ফেলে দিয়েছো?”
তো তারপর থেকে কথাও হতো দেখাও ও র বাড়িতেও গেছিলাম এক দুবার। তারপর কি করে কি কারণে হঠাৎ একদিন সব বন্ধ হয়ে গেলো এই দেখা কথা হওয়া মনে নেই! মানে এখন মনে পড়ছে না!
তো আজকে একদম ভোরের দিকে ঘুম ভাঙার জাস্ট আগে ওকেই দেখছিলাম স্বপ্নে! কোনো পাহাড়ে বেড়াতে গেছি আমরা সাথে বেশ বড় একটা টেপরেকর্ডার মিষ্টিমামার যেমন ছিলো না! তেমনই পুরো খয়েরি রঙের কালো হ্যান্ডেল হ্যান্ডেলে আবার একটা চামড়ার কভার পরানো। তো সেটা নিয়েই ও মাঝে মাঝে একবার এদিক একবার ওদিক পাখির ডাক রেকর্ড করছে আর আমাকে বলছে “মোটে কথা বলবে না এখন”! বাকি না আরো কি কি সব ছিলো ঝরণা স্নান করছি কোন একটা দোকানঘর খাটিয়া পাতা! ধুর মনে পড়ছে না গো!
তবে হঠাৎ কেন ওকে দেখলাম কে জানে! বহুকোটি বছর ওর সাথে কোনো যোগাযোগ নেই। জানিই না কোথায় আছে! তবে স্বপ্নের ঋষিকে দারুণ হ্যান্ডসাম লাগছিলো জানতো, মুখের দাড়িগুলো এখন বেশ স্পষ্ট হয়েছে পুরো বনজঙ্গলের মতোন দাড়ি নয় হালকা ছোপ ছোপ হয় না হালকা দাড়ি ওঠা মুখ ওমন চোখে সরু ফ্রেমের চশমা একটা নীল সাদা লম্বা লম্বা চেকের পাঞ্জাবি পরে ছিলো আর ধূসর রঙের জিন্স

অহনা সরকার

#ফেব্রুয়ারী২০২০

#bangla, #banglalekha, #ahanasarkar, #uchcharan,

য়ূর্ণা

image_search_1578662717638

নাভি।
উপুড় হয়ে বসা আমি মুখ ডোবাচ্ছি দেখছি ধীরে ধীরে নামিয়ে আনা মুখ চোখ শ্বাস ধীরের আধখোলা আলো থাকে এখানে শিখা তাপ তার সাদা আলো নীলগায় ধীর ধীর আস্তে সর্বস্ব য়ুঁউউ শ্বাস টানা ভেতরে কপাল ভুরু চোখের ওপর মাথার ছুঁইয়ে গলা ঢোঁক স্পর্শ নামা ঠান্ডা দুপাশ ভেতরের দু ছাতি অলঙ্গ তাদের জেগে ওঠা তারা কি অল্প জাগলো অল্ ছোঁয়া চায় বাহির পাড় ছুঁয়ে পর্বত্য ধীবর অগ্নন বিহদের জাল তার বেড়ে ওঠা সর্বস্ব আমি পায়ের নখ কণা ডান
ভেতর নাভি নামিয়ে আনা মুখ ঠোঁ পুড়ছে তাপ ভাঁজ ওপরের জড়ো করে ওই কাটা পাশেই কেদ নিঃশ্বাস ঢালু পথের পর হাঃ বাকিটা আমার জিভ নিশপিশ করে মাঝের ভেতর চেরা নিজেকে গুটানো লাল উল্টো র্স্প ঠোঁট গলিয়ে দিচ্ছি নামার একটাই একটাই মাত্র আলো সাদার হলুদে ভাগ ফুট কণা মাত্র কণাটা কি রঙের জিভ তার কণায় রেখেছে সাদা ধবধবে তামাটে আঁচ নীলাভ পুড়ে যাওয়া পুড়ন্ত সবটুকু
ঠান্ডা লাগে বিষাক্ত নীল জিভ পেতেছে শোয়ানো

অহনা সরকার

#ফেব্রুয়ারি২০২০

#bangla, #banglalekha, #ahanasarkar, #uchcharan