তুমি হেরো

20200130_150015-01

যুবরাজ সন্ধি হাঁটছে। নদীর পাড়ে রাতে হাঁটতে বেরোনো তার বহুদিনকার সখ অভ্যেস। নদীর পাড় ধরে ধরে জলে তার ছায়ার ভ্রমণ, হ্রদ। জলে ছায়াটা কেমন কালো গাঢ় অথচ পূর্ণ পূর্ণিমা আজকে সমস্ত বালি চরা গাছপালি নিজের হাতে নিজের গালের সমীণ যুবরাজ হেঁটে চলেন
এ চলার কোনো দিনরাত্রি নেই বা পরস্পর এই পথে এই অগসর যে কোনো দিন সময় আলো নিভিয়ে বা জ্বালানো নদীর পাড়ে গিয়ে বসলে কিস্দ তার হাতের ছোঁয়া
ঘাড়ে কাঁধে দিব্য জোয়ান রজনী পালোয়ান আর তার হোমাগ্নি নদীর জলে পোষাক হীন আঁখিকে দেখতে দেখতে রজনী বোঝেন ঘাম জমছে দুহাত কাঁধ চেটো শিকারি বিড়ালের হুউয়ুম্
ঝপাং জল শব্দের সাথে আঁকড়ানো আবোল
তিনটে ধাক আর পেরোলেই তেরেকাটা আরে এভাবে না এই তো হাত দিলি এটা তা তা তা তার পরের টা চার চাল ছক্কা পড়লে তুমি হেরো

এ সমস্ত গল্প দেশভাগের যেগুলো পড়লাম বা আরো না পড়া ঘুমিয়ে একটা রাস্তা দেখলাম বাড়ির আমাদেরই ভূতের রাস্তা বৃদ্ধ তিন মানুষ মা বাবা বই পোষাক ভেঙে পড়া ঘরের একদিক জাল বোনা কাঁটা দুই শিশু বিহারী মা ওজন খিদে রাস্তাটা চিনি আমি আমাদের বাড়িরই রাস্তা খেলে ফিরতাম যখন সন্ধ্যেয় মনে করার চেষ্টা করি কোন জায়গায়টা সবচেয়ে ভয় করতো! ফাঁসিপোতা পেরিয়ে ঝাঁপগাছ বাঁশকুণি পরের গলিটা ও পাড়ায় যাওয়া যেতো হাজরাদের বাড়ি হালদারদাদুর পুকুর আমাদের পুকুর এ কোণা পেরিয়ে জামরুলের সীমানা বুড়িদের বাড়ি মালামাসিদের আমাদের ভয় সবচেয়ে বেশি করত ওই হালদারদাদুর পুকুর আর বুড়িদের বাড়ির মাঝের সীমটুকু ঘন অন্ধকার বুনো শাকপাতার ভিজানো তিত্ দাঁতে কাটলে খেঁজুরের বাকি রাস্তাটা ইঁটের লাল সুরকি মজিয়ে
চোখ বুজলে এখন একটা মুখ টানা আঁকা পুরো রাস্তাটা মুখ ইঁটেই সবটা ইঁটের চোখ নাক ঠোঁট ঠোঁটজ্বল চোখ বোজানো নেই পাতার ওপরই সেই পাতার ওপর নিচের ভাগ কালো এগুলো অক্ষিতটল পট

লক্ষ্ণীর ঘরের সামনে আয়না হাতে আয়নায় মুখ রাখা খাটের এক কোণ বাজু নিজেকে দেখছে নিজের কল্পরাগ লাল পাড়ের আঁচল কাঁধে তার সারা গায়ে জড়ানো গন্ধ বাহির আদরের তোর আদরের

অহনা সরকার

#ফেব্রুয়ারি২০২০

#bangla, #banglalekha, #ahanasarkar, #uchcharan,

লীলাবতী

FB_IMG_1580141069119

লীলাবতী! নামটা কি অদূর না! কেউ কথা বলতে বলতে গেলো জানলায় শুনলাম। অন্যেক কথা তাকে না জানিয়ে শোনা অন্যায় কিন্তু লীলাবতী!

ছবি আঁকতে ইচ্ছে করছে জল রঙে জল পাতা ভর্তি ছিটিয়ে রঙীন ক ফোঁটা তারা নামবে তারপর ছুঁয়ে ছুঁয়ে নেওয়া

ছবি আঁকতে ইচ্ছে করছে জল রঙ পাতা ভর্তি জলে ডুবিয়ে স্টেশনে বসে এখন ফাঁকা একটাই মাত্র স্টেশন লোক জনসংখ্যা বাদামওয়ালা ভাঙা জল কল পুরোটা ধরে জলে ডুবিয়ে দেবো পুরোটা! জল ঝরলে পর নখের কনাগুলো এই আলো লাল বাদামি গা ঘষা মনে পড়া পাশ কাটানো ঠোঙা মুড়ি চার পাঁচটে সবগুলোই তো রঙ তুলে কাগজে রাখলে জল এখনও ঝরছে অল্প সিগারেট ধরালে ডান হাতের দু আঙুলের ফাঁক
ট্রেন আসবে কি কোনো! আসলে পুরোটাই গা এই কাজের জল অল্প আছে এখন কেউ পা বাড়িয়েছে থামতেই প্রথম প্লাটফর্ম

অহনা সরকার

#জানুয়ারি২০২০

#bangla, #banglalekha, #ahanasarkar, #uchcharan,

অসালন

DSC_3994-02

রাত। পুঞ্জীভূত অসালনে থমকে। রাত বললে ঠিক কি মনে আসে? অন্ধকার কালো এক জটাধারী তার খোঁপাটা পেঁচিয়ে বেঁধেছেন ক্ষোভ সহস্র পায়ে গতাধরের ছাতা হেঁটে চলেছেন। হাতের করমুন্ডুল টপকে জলের উথল সারা রাস্তা যতটা এসেছেন পথ
নজরে অমিলান
দূরে বা অদূরে দাঁড়ানো মানুষেরা নিজেদের দেখছেন পায়ে চোখ কেমন পরিবারহীন অথচ ওই তিনি হেঁটে চলেছেন ওই যে অন্ধকার
গায়ের সাথে গা মেলানো বিন্দুবিহারী পদাঙ্ক
রাজা তোমাকে শুনি
রাজা!
সিংহের মাথাওয়ালা মানুষটি
অন্ধকার টিক্ ছুঁই

রেলগাড়ি একসময় এখান দিয়ে চলতো এখনো পাহাড়ের ধাপ কেটে বানানো ছত্রাধার। রাগবিহারী মানুষটি কেমন একা হাঁটছেন নিজের মনে দুলতে দুলতে তুলতে কুড়ানো

অহনা সরকার

#জানুয়ারি২০২০

#bangla, #banglalekha, #ahanasarkar, #uchcharan,

জনে

DSC_4623-01

কূল তার কিণারার অধিক। মুগ্ধতা বিছানা লইয়াছে। তিনময় জ্বর তার আজ অধিক তিনদিন। এক বিদেশি সপ্তাহ যখন তখন তার আসা যাওয়া যখন যেখানে খুশি মুগ্ধ তরঙ্গিনী 

রেখার তারটা দুহাতে কচলে ডাকি তাকে ডাকি তার তার নেই জিভে আসলে ভেজা এ মাসে বড়ই কম বৃষ্টি শাহেনসা মধুরিমার ছন্দে দেবতা দ্বন্দ্বে টিকে আছেন। কি সে দ্বন্দ্ব!
হ্যালো হ্যালো দন্ডাবতার হে ধর্মাবতার আপনার নধর চলাখানা চালখানা আমায় দিন হাতে ধরি টুক্
বিদিশা মহান্তি দুধের চাল জলে বসিয়ে আধখানা ভুলে গেছে! এখন যেখানেই যায় দড়ি! স্নানে সামনে কারণে অকারণে। আমার কোনো কার ওন নেই অকারণ! থাকতে পারে ভেবে মাথা ভেতরের জট তার ভেতরের বিশ্বামিত্র রেগে আঙুল তুলেছেন আজ চিবিয়ে খাবো সবকটাকে ব্যাটা শয়তানি একটাই কারণ একটা হাড়মাস দিন রাত্রি দিবস রাত্রি অকাল আকাল করে মেরে ফেলল হে! আজ তোর একদিন কি!

জড়োসড়ো হয়ে বসেছে। বুকের ঠিক নিজের যেখানটা কারণে অকারণে বেহাল্লায় যখন তখন চাপ পাই দম বন্ধের হেলা খেলা। নিজেরা যেন সূতো পেয়েছে যখন তখন দাঁতে চেপে পাঞ্জায় পাঞ্জায় লড়াকু বিমান। ঘাঁটি সুদ্ধু! অথচ কাল বুঝলাম যখন হলো হচ্ছিল কারণ ছিলো তোমার! আমি আমাত ভেবেই! বড্ড শুক্রমনা হয়ে যাচ্ছি স্বার্থ বেত্বরত্য ভূ কেন্দ্রিক

লেখার পর খালি। আবার দেখলাম ঠান্ডা জমছে। পড়ছিলাম আপনাকে। এমনতম। এমনই

অহনা সরকার

#জানুয়ারি২০২০

#বাংলা, #বাংলালেখা, #অহনাসরকার, #উচ্চারণ,

শুয়ারম্ভ

image_search_1578662691318

তার বৈবাহিক জীবন সেরে সরে ওই পাহাড়ের মাথাতে খাঁজ গড়েছে। দুজনার জীবন সাংসারিক জীবন। জল আনা জল খাওয়া। পাহাড়ের খাঁজ কেটে কেটে তারা জমিন আনে ফলানো শষ্য। রাগি বাজরার ডাল কখনও বা ফলানো মেম
ওই দূরে আরো কয়েক পা পিছিয়ে তাদের থেকে বেশ কয়েক এই মূত পাহাড়ে বসে আমি এসব ভাবি। দেখি সামনে জল জমছে নদী কেটে পাহাড়। পুরুষটি তার অর্ধাঙ্গ কাঁধের বাঁকে জল নিয়ে এপথ ওপথ নামা সঙ্গীটিও নারী যায় কখনও ভুট্টা তুলতে বা ক্ষেতের জল তার কনকে চার মাসের কন্যা আসবে এখনো আসেনি নতুন শুয়ারম্ভ
নিজের তলপেটে হাত দিই বাড়ছো তুমি বাড়ছো কি! না এ তুমি তুমি নয় অন্য কেউ অন্য কোনো কেউ তার ছুঁয়ে অপর্যাপ্ত পরিসর রোজ রাতের চোখ একা বিছান খোলা শূন্য
পুরুষটিও কি তাই ভাবে ভেবেছে কখনো তাকে নিতে নিতে আমি! এ এক বেতুরবা গাঁথন এমন হয় নাকি কখনো হয়েছে!
এ পাহাড়ে কোনো পাখি নেই আছে পায়রা নেই নিজেকে মুড়ে বেশ করে ভাঁজ হাতের দু কনুইয়ের নিচে পায়রা আঁকছি একটা ছাই ছাই রঙের সে বেশ উঠে আসছে দীর্ঘ পা ফেলে পা ফেলে তার হাঁটা চলার ছন্দগুলো নখ গোলাপী। এখানে ও কে রেখে যাবো এই পাথরটার ওপর
তারপর কখনো দুহাতের মুঠি উথান
সেই পুরুষটির চালে পায়রাটা উড়ে বসেছে কখনো জানলায়। দীর্ঘ তখন রমণীরত তার ওমন

অহনা সরকার

#জানুয়ারি২০২০

#বাংলা, #বাংলালেখা, #অহনাসরকার, #উচ্চারণ

র্শ

SmartSelect_20200116-161839_Gallery

স্পষ্ট
অ স্পর্শ ঝাপসা।
কিছু মানুষ ময়ূর বিক্রি করতে বসেছেন। ছাই ছাই নীল কৌটোর রঙে সকালের। ময়ূরগুলোর পা বাঁধা প্রত্যেকটা স্বর
আরো একটু দূরে ঝাঁকা ভর্তি মাথা এক বয়সী তস্কর তারা নিজেদের বহু বহু যুগের চেনা মাটির আগুনে পুতুলের রং
আধো দেখা যায় আধো
গায়ের হাতগুলো নীল পশলা ফাঁকের আড়াল
পুকুর
মাছ ধরা চলছে। সাদা ঝিনুকে রাতের অল্প হা করেছো তুমি একসময় চেঁচিয়ে
অনেকগুলোর মূর্তির পা শুকনো খটখটে জুতো নেই অথচ আমরা সবাই আস্তে আস্তে আমাদের সবার হাত দৃ রেলগাড়ির ওই ওইই যে আলদা আলতা সকাল গায়ের ঘোমটা সরিয়ে মেজঠাকুরাণী

অহনা সরকার

#জানুয়ারি২০২০

#bangla, #banglalekha, #ahanasarkar, #uchcharan,

ডাক

SmartSelect_20191208-170848_Instagram

আমার গায়ের ওপর কড়ে আঙুলের ছাপ
আমার গায়ে গাঙে কোমরে কনে
ডাক কি চলে যাচ্ছে
তাকে পাশে বসালাম ডাক

গাঁয়ের ওপর টুকটুক হাঁটি গাঁ কথা বলে
চলা পথ পাশে হাঁটি হাঁটি

সাইকেলওয়ালা আর তার মুচোর দোকান জুতোটা চটির সাথে কষে বেঁধেছে। এখন যাওয়া যাওয়া পরনিতাই গোপাল
ছন্দে গান বাঁধতে বাঁধতে লোকটা ছুটে গেলো ওই বাস ধরবে শেষ ট্রেনের ছুটতে ছুটতে বাড়ি তারপর
আবার ঘর কোমর গাঁও

হাতের ওপর একতারাটা নিয়েছি কড়ে আঙুলের ছাপ
আঙুল কোলে বাজে কনে তার বর

অহনা সরকার

#জানুয়ারি২০২০

#bangla, #ahanasarkar, #uchcharan

সব

2020-01-16-21-34-45

ছায়ার মতোন উড়ে চলা পাখিটা ঝাপসা
পাতাটা ঠিক তখনই পড়ল
ওই আবার আর একটা ঠিক ছায়ার ওপরে
বাকি শব্দগুলো অন্তু
বাইকে যাচ্ছে কেউ লম্বা চওড়া হাত বাইক
মাথা নিচু করে সামনে ভাবছি যে পাখিটা বসে কাক! লম্বা দাঁড়া বেশ পা দুটো
ওরা ঝগড়া করে ওঠে বাকিরা ছাতার সব

অহনা সরকার

#জানুয়ারি২০২০

#bangla, #ahanasarkar, #uchcharan,  #banglalekha,

ব বলছে। বাকিটা ঝাপসা

20200103_181749

প্রথম সিন 

কতগুলো দূরন্ত ঘোড়ায় করে কিছু দূরন্ত যুবক এসে থামলেন, মাঠের একটা প্রান্ত বেশ ঢালু, স্কটল্যান্ডের তরকারি ক্ষেতের মতো দূরে বেশ ঝাপসা গুণানীক পাহাড় দেখা যাচ্ছে
তারপর দাঁড়িয়ে আছেন তো দাঁড়িয়েই আছেন। শব্দক্ষণ নোড়া নাড়ানাড়ি থামা সব নিঃস্তব একেবারে। স্কিনের কাছে মুখ নিয়ে গেলে বোধহয় তাদের নিঃশ্বাস পড়ার শব্দও বা হাত পা নাড়া! কারণ মাছি বসছে বেশ দেখা যাচ্ছে। তা কতক্ষণ গেলো সঠিক বলতে পারি না ঘুমে এসেছিলো ঢুলে বাইরে এমন নমনমি ওয়েদার! হঠাৎ শুনি জোরে বেশ গলন বলছে
উঠে দাঁড়ান
ঘর অন্ধকার মনে হলো এতক্ষণ তাও মাঠের আলো ছিলো!
জাতীয় সঙ্গীত
জণগণ বলতে গিয়ে থমকালাম। কি দেশের কি ভাষায় গান হচ্ছে! হ্যাংয়াঙ্কা ইঈলিংঙ্কা আরো এমন কিছু শব্দ যেন। কিন্তু সুরটা! সুরটা যেন ফাঁকা বাঁশের মাঝ মদ্দ কেউ কাটছে কাঠের দুধার ধরা অস্ত্র কাঠের ওপর তাদের করাত চালানোর ভঙ্গি কোমর পায়ের গুঁড়ো গুঁড়ো কাঠের সাদাত গুঁড়োগুলো মুখে তুলে হাতের দুহাত লাল শালে জড়ানো হাতটা!
জুতোগুলো! কালো গামবুটের পা পর্যন্ত খয়ের কাঠের! কাঠ!
নাহাহানানানাগোনাগো নাহানানা!
কারা এরা বাংলা

আরো এগিয়ে যাই। বাংলা ভাষার পর পরের সিন বন ফাঁকে ফাঁকে চলতি
সারারাত বৃষ্টি হয়েছে তো
তোমার হাত পাশে এসে বললে
তুমি!
তা একা যাবি নাকি? ওটি হচ্ছ্যে না হে ওটি ওদিকে বেশি দেখিস না, প্লেনে ওরা কাঠার বয় কাঠ কাটে তো!
সত্যি বলতে কি মানে কিছু বুঝিনি!
ওমন লাফিয়ে লাফিয়ে হাঁটছো কেন?
আয় না তুইও এই লাফ দে এই ফ

এটা কি ছিলো জানি না! শব্দ না সচেতন!

অহনা সরকার

#জানুয়ারি_২০২০, #অহনা_সরকারের_লেখা, #উচ্চারণ,