আবদুস সালাম

শতাব্দীর ছায়া

সাবেকি সম্পর্কগুলো ভেঙে চলেছে  প্রতিদিন
শব্দেরা চাইছে ছুটি

বেহিসেবি দিন ভ্রাম্যমাণ ঢেউ

সম্পর্কে র উঠোনে পাহারা দিচ্ছে জ‍্যোৎসনা
পেঁচাদের উল্লাসে মেতে ওঠে অস্পৃশ্য অভিমান

বানভাসি মরণ জড়ো হয় বিষাদের ঘরে
সংক্রমণ  ঢলে পড়ে মহল্লায়
শতাব্দী প্রাচীন ছায়া নামে আমাদের ঘরে

সুধাংশুরঞ্জন সাহা

যুদ্ধ বিরোধী কবিতা

এখন বাতাসে বারুদের গন্ধ ।
#
#
জলহীনতায় ভুগছে জলাভূমি ।
ক্ষয়রোগের প্রকোপে সম্পর্কও
গায়ে মেখেছে চোরাবালির রহস্যময়তা ।
#
মনখারাপের গলিতে গলিতে
দু’চোখ ভাসিয়ে কাঁদে সরলতা !
#
আমি তো কবেই ফিরিয়েছি তোমার যুদ্ধপ্রস্তাব।
তারপর দ্রুত হেঁটে গেছি অনেকটা পথ ।
বেখেয়ালে পেরিয়ে গেছি প্রিয় নদীও ।
#
আকাশে যুদ্ধবিমানের মহড়া ….
মানচিত্রের মারপ্যাঁচে সীমানা নয়,
কুচি কুচি মানবতা ।

মোঃ আলিউজ জামান

সিফিলিসের বীজ

আঙুলে আঙুলে রাখার শব্দে
মাতাল করছে বাঁশিওয়ালা !
জোৎস্না রাত, কর্পূরের মতো সুর ভেসে যায় !
কলসী থেকে সমুদ্রের দিকে
শেষ নোঙরের মতো পড়ে আছে
পাঁজরাবদ্ধ সংস্কৃতি l
নিকোটিনের ধোয়া সারা ঘরে ঘুরে বেড়ায় l
একটা পঁচা শামুকের গন্ধ লেগে থাকে,
তোমার শাড়ির আঁচলে l
বিশ্বাস করো !এই মৃত মায়া সভ্যতার
কঙ্কাল লেগে আছে, তোমার ঘামে ভেজা ব্লাউজে l
আজ নিজের দাঁতে দাঁত রেখে আঙ্গুল কেটে দেখি !
আমার রক্তে ধীরে ধীরে মিশে যাচ্ছে
সিফিলিসের বীজ !
তবুও বর্ণান্ধ চোখ নিয়ে বেঁচে আছি
তোমার যোনির সুস্থতা চাওয়া,
মিছিলের ভিড়ে l

নিঃশব্দ আহামদ

প্রতীক্ষা

 

আর এই যে অস্বস্তি,আত্থযুদ্ধের মতো -কোনো কোনো হননেচ্ছা পেয়ে বসে-যেনো হাতে উঠে আসে

ঝিকঝিকে ছূরি,নিজের উপর ধৈর্য্য রাখা গেলে ফালা ফালা করা যায় হৎপিন্ড,নাড়িভুড়ি-তবু অসহ্য

এসব রাত৷

 

সবচে অসহ্য এই,চোখের ভেতর ইথারের মতো ভেসে উঠে কোনো মুখ-না সে বলছে কথা,অগাধ

নিরবতা

আর আমি,তাঁর দিকে থাকি মুখিয়ে,

না ,বলে না সে এতোটুকু কথা-শুধু আহবাণ হয়ে যাওয়া কোনো মৃত্যুর কাছে শামিল হয়ে গেছে

আমাদের অনেক অনেক প্রশ্ন,তবু শেষতক ছুঁয়ে যায়,সহানুভুতি আকর্ষণ তেষ্টায়,দিব্যি রেখে গেছে

কফিনে যেনো পড়ে থাকে লাশ,দুঃখ দুঃখ কিয়দকাল-

 

তবুও তো কারা যেনো নিয়ম করে কাঁদে,মৃত্যু শেষে

কে আছে এই ইহজগতে,নিঃশব্দ পাঠে অশ্রুর রেখে যাবে বিবরণ;না,কোথাও মায়ার এতোটুকু সাক্ষর

রেখে যেতে পারিনি,তাই সমস্ত কান্নার ভেতর কেমন নিস্তেজ এক শরীরে ,ঘুণে ধরা শিরদাঁড়া-

 

আরেকবার এসো,অন্য কোনো রাত-

সে দিন কাউকে বলবোনা, আজ আসতে পারে কোনো দূত,সংহার কৃতজ্ঞতা তাকে পেয়ে

দেবো,অসহ্য সহিষ্ণুতার ভেতর!

 

অভিষ্টতা পাশে শূন্যতা-

 

আমি বেরোলাম এই সন্ধ্যায়,সমস্ত নক্ষত্র থেকে বিচ্ছুরিত আলোর গুঞ্জরনে হামাগূড়ি দিয়ে সরে গেছে

আঁধার;অপ্রমেয় অস্থিরতা এক বুকপাশে আলোড়িত করে ফিরে আমায়৷তারপর আমি হেঁটে গেলাম

অনেকটা দূর-পৃথিবীর অভিলাষ সব কেমন হারিয়ে গেছে,যখন ছেড়ে গেছে এই যে ছায়া৷

 

এতো আলোর ভীড়ে,ঘনীভূত কালো সীমা জুড়ে রাখে চোখদেশ-ফ্যাকাশে ইপিল বনে ঠাঁই দাঁড়িয়ে

ছুঁয়ে যাই হাওয়া-আর্তনাদের মতো আওয়াজ তুলে সরে সরে যতোটা দূরত্ব-কাছ ডাকি অভিষ্টতা,না

এখানে শুধু শূন্য ভ্যাকিউয়ামের মতো পুরে রাখা ফাঁপা অন্তঃদেশ

প্রবোধের মতো তুমি এলে-

 

তারপর ছেড়ে গেছি কোলাহল,যুগে যুগে আমি পান্থজন

পথ পাশে রেখে অনেক অপেক্ষা -ছত্রখান হয়ে গেলে সমস্ত ভাবনার,জড়িয়ে থাকা শোক-

সব শোকপাশে প্রার্থিত রবে আমার ঘোর শূন্যতায়,তোমার ই সঙ্গপ্রিয় বুক৷

 

ভয়পাশে মৃত্যু

 

উজ্জ্বল একটা দিন মরিচিকার মতো চিক চিক করে হারিয়ে যাচ্ছে বেগতিক পায়,ক্রমশঃ আমি ভেদ

করে চলি,মাছের ডানার মতো এই অঘোর জলরাশির ভেতর

জলের কোনো শরীর-আর আমার চোখ মৃতপ্রায়-

হাঁ হয়ে থাকে ক্লান্ত বেশে যেনো বহুকাল৷

 

খসে যাওয়া পালকের মতো আহত এক পাখি বুকে

পুষে রাখি আমার অবাধ এক আকাশ-

আহা একদিন ,সমস্ত ভয়পাশ ছেড়ে উড়ে যাবে প্রাণবায়ু

দূরের গানে মাতোয়ারা হলে এই যে বিষন্ন এক আকাশ৷

 

সে দিন আমার বিচরণ কিংবা উপস্থিতির সমস্ত পদবিক্ষেপ মুছে ঝিমোতে থাকে দূপুর রোদ-

কোনো ছায়া আর প্রতিফলিত হবেনা করোজ্বল রশ্নি থেকে আমার বিপরীতে-এখানে যেনো আর আমি

নেই৷

 

তবু যেতে যেতে পেছন ফিরে আমি দেখি,ফেলে আসা পথ-সেখানে শূন্যতা এঁকে ঢেকে গেছে কাছের

সব দিন

অযুত বছর পরে যদি আসা যেতো আবার ,মৃত্যু পর

তবে এতোটা কান্না হতোনা,মৃত্যুর কাছে-

 

জানি,সে আর হবে না-শুধু নিঃশব্দ এভাবে প্রতিটি মৃত্যুর ভেতর-রেখে গেছে তোমার পাশে যাবার

-যেখানে আমার ঘুমের নগর,শেষবার তাকাবার মুগ্ধ জোড়াচোখ৷

 

সায়াহ্নের ক্লান্তি৷

 

গাড়িগুলো ছুটতে থাকে,বিদীর্ণ কুয়াশার পথে

মেঘ দেশে বৃষ্টির রূপ মেখে যেমন আকাশ চোখ-

আমার ভেতর হাহাকার হয়ে আসছে এমনো দিনে

কোনো মৃত্যুর ইশতিহার৷

 

ছুটোছুটি সব পথ,সম্ভাষণ রেখে মিশে যাচ্ছে যেনো দূরাগত কোনো দিনের কাছে

যেখানে উজ্জল কোনো রোদে আর এতোটুকু প্রতিসরণ

রেখে অদূরে থাকবেনা নিঃশব্দের কোনো ছায়া৷

 

যেতে যেতে এতোটা পথ,ক্রমশঃ জানান হয়ে ফিরছে

কোনো সায়াহ্নের ক্লান্তি,

মূক কোনো যুবা বেশে যেনো মুখস্ত এক জীবন শেষে

নেই আর এতোটুকু ছুঁয়ে যাবার আনন্দ ৷

 

এই ঘাসের দেশে,কুয়াশার ঘনীভূত আঁধারে

অলক্ষ্যে হেঁটে হেঁটে দ্যাখেছি আমি চোখের কাছে কেমন সেঁটে থাকে অনিমা চোখ-তুমি ই থেকো

আমার এমনো কোনো দিনে অন্তিম যাত্রাকালে,

 

শেষ হাসিটুকূ আমি যে রেখে গেলাম তোমার অধর মায়ায়,কখনো আর হাসবোনা বলে

শক্তিপ্রসাদ ঘোষ

নষ্টছবি

সুজনের বিরহ জ্বালায়
  শুয়ে আছে বিকেল
   রক্তস্নাত সূর্যের পাশে
উৎসাহি নদীর ঢেউ বয়ে যায়
   মিলনের স্তবে
   বহমান কাল
অক্ষর মালায় সাজানো
   ঘর, দুয়ার
   স্মৃতির সমুদ্রে
   ঢেউ তোলে
বিলুপ্তির পথেও খোঁজ মেলে
   তোমার চোখের ইশারা
খুঁড়ে আনে জীবনে
   নষ্টছবি।

অহনা সরকার

দ্রৃর্ত

ভারতের বন্দিদশা ঘুচতেই আমরা পালিয়ে এলাম সীমান্তের একান্ত তীরবর্তী অংশে। নোনা দেহে আমাদের তখন যে যার মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এমন কি ছেঁড়া চটি বা মালার কণা সংগ্রহ জিনিষটা যে একান্ত জঞ্জাল এটা ঘর না ছাড়লে বোঝা যায় না। এখানে সকাল সন্ধ্যে একটাই গান, তীর ছুঁয়ে ছুঁয়ে মিঠে জলে র দারবাক্ষ। নিজেকে মনে মনে সুখর জানাই যে আমি এখনো একা, পাশ ফিরে ছিলে উঠে যাওয়া তকলিফ

কয়েক টা ছোটো ছোটো ঘাসের বন আছে, জঙ্গল ঠিক নয়, তবে এসে পড়ার মধ্য পাশ্চ্য দিনে একবার যেন কুল বা কোনো গভীর প্রাণ শব্দটা ভাবলে এই যে এখানে মুঠো মুঠো বালি তুলে নাও রোদের জা

পিঠ নিচে শুয়ে থাকলে একসময় সারা যতনে নীল একধরনের পোকা ও রা যেন কথা বোঝে বা শুনতে পায় …….. খুব সামনে মুখে র সামনে রেখে দাঁড়াতে  ……. একটা জিনিষ লক্ষ্য করলে দেখতে পাবে, পা চামড়া গুলো যেন আমরাই আমরা মৃত পুংশকে ধারাবিবরণী শেষে এখন উপায় জানাচ্ছেন ঘোষক

ঠিক জানি না কতদিন কতদিবস রর

কখনও ছায়া দেখলে বাষট্টি বছরের এক সময়কে গুলি তে ঝাঁঝরা ফিরে আসা মুচলেখা জানিয়েছে

 

এখন বসন্ত না? ঝরে যাওয়া পাতা আঁচলে গুটিয়ে ধরো একটা হাত একটা করে পাতা তুলছে হাওয়া আবার আবার সমস্ত সভ্যতার সীমানা দাঁড়ালে দূ        র ওই যে আকাশ নীল তারই চওড়া বুক কয়েকটা পাখি ব্বুক ব্বুক ওদের কি ডান বলে? সন্ধ্যে আসছে আর কিছু পরেই

 

কেন্দ্রাতীত

খানিকক্ষণ চোখ বন্ধ কর। করেছিস? ভাব একটা কামারশালা। হাতুড়ির ঠং ঠং       ছড়িয়ে পড়ছে দ্যোতানা। যদি চারিদিকে তাকাস, এ ঘরটারই। ওই যে ঝুলিয়ে রাখা রবারের চাকা, তার পাশে আগুন জ্বালা র, তারও পাশে মুখ বেঁকানো একটা লোহার  …….. সবাই সবাই মৃদু কেঁপেছে। এমনকি তুইও। ঠং এ ঘরের সর্বত্র তার জিভের ভাব, চেটে নেওয়া ঠোঁট, দাঁতের কুচি। মুখ বোধহয় একটু কুঁচকেছে। আর যে হাত তালু মুঠিতে ওই হাতুড়ির তার ধরার প্রতিটা ফাঁক, প্রত্যেক কেন্দ্রবিন্দু, রেখা, তাদের কণায় কণায় তারা ঘাম বয়। তারা ঘামের  …….. ওই যে হাতের ফাঁক ভাঁজ কনুইয়ের শেষ কাঁধের মোচড় গলা কন্ঠনালী র হাড়, ধক্ বুকের পাঁজর। দুখানা তীব্র তীব্র ছিট। বাদামী। সহজ বেয়ে নাভি আরো আরো আরো নিচে …….. তুই ভাবছিস আমি তো এখানে দাঁড়িয়ে এই যে ঘর ঠং শব্দের দ্রোণ। যে ঘামটা কামারের তালু বেয়ে কামার গর্ভ প্রভ্যর্থা পেরিয়ে এখন  ……. সেখানেও তুই। তুই ই তো। চোখে জল পড়েছে। হালকা মুছে নে। দেখ কামারের গুঁড়ো গুঁড়ো চোখে, ওই যে আচ্ছাদন ঢাকা কালো জলের আড়াল, চোখ। ওই ওই জলেও তুই, তুই ই তো। শরীরের অঙ্গ বেয়ে ধাবমান এক চাঁদের কণা, পৃথিবীর আলোকবর্ষ ছাড়িয়ে তোর জানলায়। জানলার বাইরে তুই রাখা। দেখছিস তাকে

 

তৌহিদুর রহমান

ছায়া

প্রথম যৌবনে শিমুলের মতো
কোমল হৃদয়ে
এক নিরেট প্রেম ছিল আমাদের।
ফাগুনের শান্ত বিকেলে
ঠোঁট জোড়ায় মৃদু হাসি লেগেছিল তার,
কানে কানে ফিসফিসের কলি
ফুটেছিল সেদিন
ইশারায় চোখ বুজে বলেছিল কিছু।
মনের সুবিশাল প্রান্তরে আমার
তখনো আসেনি ফাগুন।

মলাটের ভাঁজে
শুভ্র গোলাপের পাঁপড়িটা
লুকোচুরির মতো রেখেছিল সেদিন
ভাবনার দুয়ায়ে এ যেন
অতন্ত প্রহরী।
নির্মল জীবনে সোনালী কিরণ
লেগেছিল সেদিন
গোধুলির বেশে।

শাপলা লতার মতো ডানা মেলেছিল
তার আবেগী মমতা
বাউল বাতাসের মতো
সীমাহীন প্রান্তরে ছুটতো
তার অশান্ত আত্না
আষাঢ়ী মেঘের বেশে
শান্তির ফোটা ফোটা রিমঝিম ঝড়াত
তার কথার ঝুঁড়ি।

নিশুতি রাতের কোলে শুয়ে
ডাহুকের সুরে কান্নায় নিভে যেত
আবেগী প্রদীপ
ঝিঁঝিদের কলতানে মিশে যেত
সুর
প্রফুল্ল প্রেম বনে।

কখনো দিকহীন প্রান্তরে
সমতালে হেঁটে চলা
ব্যারনের মুঠিতলে লজ্জিত নীরবতার কোলাহলে মন খোলা
কাইজেলিয়ার ছায়া যেন
উত্তপ্ত নীলিমার শীতল পাখা।

বিশ্বস্ত শিকারীর মতো
কমতি ছিলনা
শীতল ভালবাসার
পলকহীন চাহনীতে।

জ্যোতির সেই ঝলকানী নিভে ছিল একদিন!!
বর্ণচোরার মতো লুন্ঠিত হলো ইচ্ছের ভাষা!

স্বপ্নীল চক্রবর্তী

খোঁজ-

রোদচশমায় দুপুর দেখে এখনো বিভ্রান্ত হই রোজ,
কাশফুল দেখে অসুখে ভুগি।
বৃষ্টি পড়লেই ছাদে যাই;
তোমার জন্য কিনে নিই একটা সীজনাল আকাশ।
মধ্যবিত্ত দুপুরের বৈকালিক ছাদে,
অপঘাতে মৃতপ্রায় গোলাপের শরীরে অথবা
ধুলো জমে যাওয়া ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে,
এখনো তোমাকে খুঁজে বেড়াই।
ছোঁয়াচে কলমটাকে খুব ভালোবেসে এখনো বলি,
“তুমিই আমার আটপৌরে প্রেমিকা”

সময়-অসময়-


সুসময় পেড়িয়ে দুঃসময় এলে
সময়ে সময়ও যায় বদলে
এই যেমন বদলে গেছে চুলের রঙ, ঠোঁটের আকার
কথা শোনার ধরণটাও,
বদলে গেছে কোন কথার কোন মানে
বদলে গেছে তোমার ঠিকানাটাও!

পৃথিবীর সকল ডাকঘর ঘুরে কথাগুলো ফিরে এলো,
কোন কথা তাই পৌছাতে পারেনা তোমার কাছে,
নিঃসঙ্গতার মতো করে জড়িয়ে থাকা অন্ধকারে
কথাগুলো বুকের ভেতর পায়চারি করে!
তখন একটি দীর্ঘশ্বাস উড়ে গিয়ে শুকনো পাতার মতো
পড়ে থাকে গাছের নিচে!
তুমিই জানলে না, গাছ কি আর জানবে;
একটি দীর্ঘশ্বাসের মধ্যে অনেক না-বলা কথা থাকে!

রুপান্তর-


স্মৃতির বারান্দা থেকে দানা খুটে খুটে তুলি চড়ুইয়ের মতো ;
গোধূলির রূপগন্ধ পাখীদের থেকে বেশী আর কে জানে
ভোরের সবুজ ঘ্রাণ;
পাখীদের মতো আর কে ছড়ায় পালকে এমন মায়া;
ধারালো চঞ্চুতে বিষ !

মুঠোর ভেতরে রাখি ডানার আদর।
মুঠোর ভেতরে রাখি ঠোঁটের হিংস্রতা।

মো. আরিফুল হাসান

কবিতা দিবসের পঙক্তিমালা

 

এবং আমার পিঠ থেকে হেলান দেবার জায়গা সরিয়ে দিতে হবে

এবং ভুলে যেতে হবে যাবতীয় আয়েশ

 

রাতঘুম আর ঘুমরাতের তফাৎ ভুলে আছি

আর চোখ মেলে লাভ নেই, সমস্ত রোদ মিশে গেছে কালো ছায়ায়

দু’তিনটে নক্ষত্রের পতনের পর ভাববো যাত্রা পথের গন্তব্য কোথায়

কেউ জানুক বা না জানুক, আমি আমার কর্মে থাকবো শতভাগ সৎ

 

২.

তারপর আর কোনো আবেশ নেই, আবেগ নেই

কোনো ভাবনা চিন্তা নেই, এখোন শুধু উদাসীনতা



আর যারা চোখ মেলে থাকে

তারা তো দেখে মৃত মাছও কিভাবে চোখ মেলে থাকে



নীল জল আর সবুজ লাবণ্য শেষ দেখা কবেকার কথা

সেই কবে শুনেছিলাম ডাহুকের ডাক



আর দেখা ও রাতের সংলাপগুলো জমা পড়–ক নীল খামে

প্রজাপতি বন্ধি হয়ে আছে আলস্য কারাগারে।

 


৩.

তিন তিনবার তুমি মৃত্যুর কথা ভুলে গেলে

এবং পঞ্চমবারে তুমি জেগে ওঠলে নির্ণিমেষ



কেউ জানলো না, তুমি তার ঘুম ভাঙিয়ে দিলে

কেউ জাগলো না, তুমি তাকে বলে দিলে সব কথা



হঠাৎ এ অস্থিরতাই সৃষ্টির অযাচিত রূপ

তুমি তাকে বললে বিষাণ, হায়রে পাষাণ!



তুমি চোখ মেলে দেখতে থাকো আর থাকো ভালো

যদিও তোমার চোখ আগেই উপড়ে নেওয়া হয়েছে



৪.

কেউ রাত ভাবলে তুমি তাকে ভেবো ঘুর্ণি

পূর্ণিমা রাতে, কেউ কী জেগে থাকতে পারে?



মজার হলো সাপ-লুুডু খেলার গুটিটি তোমার হাতে নেই

তাই বলে আমাজনে যে বন্যা হবে না এমন তো নয়



কেউ চাইলেই মুখ লুকাতে পারে

কেউ থাকে নিমগ্ন ঘুুমে, অবহেলায় দিনরাত্রী যায়

 

৫.

শব্দেরও সমীক্ষা থাকা প্রয়োজন

যেমন তোমার পাপ-পূণ্যের হিসাব



অপেক্ষা করে বলতে ভুলে গিয়েছিলাম আমিও ভালোবাসি

তারপর কেটে গেলো কত রাত, কত ভাষা হারিয়ে গিয়েছে!



৬.

জীবনকে যোগ বিয়োগ গুন ভাগের হিসেব শেখাতে নেই

এতে করে জীবনে লোভ চলে আসে



আমাদের আদীম সংসারে

অনায়াসেই এক কাফেলা যাত্রী হতো

আর পরস্পরে সাথে মিলিত হতো নিজের প্রতিবিম্ব ভেবে



তারপর থেকে আকাশ বিভক্ত হতে শুরু করলো

আর ম্যাগনেট রাজ্যে ভীড় জমালো রবিনহুড।



৭.

সাত সপ্তাহের অধীক সময় ধরে তল্লাসি চললো

তারপর যে যার মতো নিজের রাজ্যে হারিয়ে গেলো আবার



আর আমরা চোখ মেলে দেখলাম ক্রাইস্টচার্চ

এবং দলবলে গুনতে লাগলাম আগুনের ফুলকি



নিজের নিথর দেহটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে সময়

এবং যা বলার ছিলো তা আর বলা হলো না।



৮.

সবুজে সবুজ দেখে নির্ঘুম প্রেতাত্মা সকাল

সকলে দলবেঁধে ছুটলাম তীর্থ যাত্রায়



ফাগুন আসার আগেই পেরুতে হবে পথ

নতুবা ধূসর সন্ধ্যায় ধরা পড়বে যৌন বিভা



নিজেকে হারালে খুজে পাওয়া যায় না

নিজে নিজে হারালে একেবারেই না



৯.

মাতালরা দলবেঁধে হাঁটে

আর পরস্পর থেকে থাকে শতেক যোজন দূরে



নিজেকে অস্তি ভাবলেই চর্মসার হবে

এবং বোরকার আড়ালে ঢাকা পড়বে বাস্তবতা



কি বিচিত্র, দেখেছো দু’চোখে?

তুমি চোখ বন্ধ করে রাখো বা খুলে রাখো

তাতে কিইবা আসে যায় অমাবস্যা রাতের?



১০.

লাল মৃত্যু বিপরীতে আমি দেখি সবুজ জীবন।



এসব তোমরা বুঝবে না

তোমরা শুধু অংক কষতে আর আতঙ্ক ছড়াতেই

শিখেছো আমৃত্যু



অতএব কী লাভ হবে জলসা ঘরে যেয়ে?



না, নান্দনিক জীবনের উত্তরাধিকার প্রশ্ন নয়

এমনিই ঘুম চলে এলে

আয়নায় তোমার প্রতিবিম্ব দেখি